লকডাউন প্রত্যাহার করা উচিত: জিএম কাদের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১ | আপডেট: ৫:৪৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১
জিএম কাদের। ফাইল ছবি

প্রতিদিন ঘর থেকে বেরিয়ে দিনমজুরি না করলে যাদের খাবার জুটে না, তাদের জীবন বাঁচাতে সহায়তার পাশাপাশি লকডাউন প্রত্যাহার করা উচিত বলে মনে করেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংসদের বিরোধী দলীয় এই উপনেতা বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে লকডাউনের সুফল অর্জন সম্ভব নয়। দেশের কোটি কোটি মানুষ দিন এনে দিন খায়। তাই জীবন বাঁচাতেই তাদের রাস্তায় নামতে হয়। মহামারীর প্রভাবে দেশে যেখানে আড়াই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে, সেখানে লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যে অর্থ সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে, তা একেবারেই অপ্রতুল।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তার পাশাপাশি লকডাউন শিথিল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “সম্ভব হলে লকডাউন পুরোপুরি প্রত্যাহার করা উচিত।”

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে চলছে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ যা ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকছে। তবে মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয় বিবেচনা করে লকডাউনের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোববার থেকে দোকান ও শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকান ও শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ‘লকডাউনে’ ১৮ দফা বিধিনিষেধ দেয়া হয়। পরে তা দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। সেসময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন চালু ছিল। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ সব অফিস ও পরিবহন বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ হয়। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।

লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকে লেনদেন করা যাচ্ছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত জনবল দিয়ে বিভিন্ন শাখা চালু রেখেছে ব্যাংকগুলো।

জাপা চেয়ারম্যান খেটে খাওয়া মানুষকে জরুরি ত্রাণ দিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনে খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে চাপা হাহাকার উঠেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে অসহনীয় কষ্ট পোহাচ্ছে।

“আবার জীবন বাঁচাতে কাজের সন্ধানে রাস্তায় নেমে আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ধার-দেনায় জর্জরিত সাধারণ মানুষ কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারছে না।”