লাখাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯ | আপডেট: ৬:২৫:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লাখাইয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য লবিং করলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের এ নির্বাচন নিয়ে তেমন মাথা ঘামাচ্ছেন না। বিএনপি বলছে দলীয় সিদ্ধান্ত পেলে তারা উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

এর আগে তারা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন না। এখন তাদের দলীয় কর্মসূচি পালন করাই হলো বড় ইস্যু। অপরদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যেহেতু জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী ও বর্তমান বিরোধী দল এ হিসেবে উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্বের সাথে দেখছে জাপা।

তবে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দাবি যেহেতু উপজেলা পরিষদ জাতীয় পার্টি ক্ষমতা থাকাকালে দলের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা এইচএম এরশাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার শাসনামলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার ছিল। বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের শুধু একটি চেয়ার রয়েছে, স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়ন কার্যক্রম ও বরাদ্দ বৃদ্ধি করার জন্য জাপার পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।

৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত লাখাই উপজেলা। এ উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ হাজার ৯৪৩ ও মহিলা ৫১ হাজার ৯৪৮জন। এক সময় এ উপজেলাটি অবহেলিত হিসেবে পরিচিত থাকলেও এমপি অ্যাডভোকেট আবু জাহির নির্বাচিত হওয়ার পর এ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যে কারণে এ উপজেলাকে আর কেউ অবহেলিত বলতে পারবে না। এছাড়াও এ উপজেলার মানুষের জীবনমান অনেকটা উন্নত হয়েছে। এক সময় কৃষির উপর এ উপজেলার মানুষ নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে উপজেলাবাসী শুধু কৃষির উপর নির্ভরশীল নয়। এ উপজেলার বাসিন্দারা উন্নত জীবন যাপনের জন্য ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা বাণিজ্যে জড়িত রয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় লাখাই’র বাসিন্দারা হোটেল ব্যবসার সাথে জড়িত হয়েছেন। এ কারণে এ উপজেলায় বেকারত্বের সংখ্যা অনেকটা কমে গেছে।

২০১৪ সালের ২৩ মার্চের নির্বাচনে এ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৯জন অংশ নেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৯হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মুর্শেদ কামাল চৌধুরী। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোছাঃ ফয়েজুন্নেছা।

উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহিরের সাথে সমন্বয় রেখেই উপজেলার সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিউল আলম আজাদ। পাশাপাশি তিনি দলকে সুসংগঠিত করার জন্য দলের সকল কর্মসূচি পালন করছেন।

এবারের নির্বাচনেও তিনি জোরেসুরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিগত নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে থাকলেও এবার তিনি পিপি’র দায়িত্বে থাকায় ও এমপি পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন চাওয়ায় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এখনও প্রচারণায় নামেননি তিনি।

তবে তার পারিবারিক সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম এ অবস্থায় এসেছেন। বিগত নির্বাচনে তাকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করা হয়েছিল। এবার উপজেলা নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তারা আশাবাদী। এছাড়াও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহফুজ আলম, লাখাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রফিক আহমেদ।

বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিগত নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম মোল্লা, মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ আগা মিয়া, ড. মোহাম্মদ আখতার আহাদ চৌধুরী স্বপনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তারা এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নামেননি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা নোমান মোল্লার নাম শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিউল আলম আজাদ জানান, ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৩ সাল থেকে অদ্যাবদি পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর মধ্যে ২বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।

২০১৪ সালের ২৩ মার্চ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের সাথে সমন্বয় রেখে উপজেলার সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছি। পাশাপাশি দলকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলেছি। যার প্রমাণ বিগত ৩টি সংসদ নির্বাচন।

তিনি দাবি করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগে কোন বিরোধ নেই। দলের একজন কর্মী হিসেবে এবার যেহেতু দলীয় নির্বাচনে আমি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জনগণ আবারও আমাকে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করবেন বলে আমি আশাবাদী।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহফুজ আলম জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে দীর্ঘদিন ধরে আমি আওয়ামী লীগ করে আসছি। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলের সিদ্ধান্ত মেনেই দলের পক্ষে কাজ করেছি। উপজেলা নির্বাচনেও দলের মনোয়ন প্রত্যাশী। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো। দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে তিনি দাবি করেন।

লাখাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিক আহমেদ জানান, লাখাই’র জনগণের সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ইতিপূর্বে জনগণ আমাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। আমি আশাবাদী আমাকে আবারও জনগণ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। তাই এবারের নির্বাচনেও আমি অংশগ্রহণ করবো।

বিগত নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মোহাম্মদ আখতার আহাদ চৌধুরী স্বপন জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পক্ষের লোক। এবার আশা করেছি বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেবো। যেহেতু বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কি না এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ হিসেবে আমি বিএনপি’র সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলে আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো।