লাদাখ সীমান্তে পাক যুদ্ধবিমানের আনাগোনা, ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ২:২২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯

যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে পাকিস্তান। সীমান্তের ওপারে লাদাখ লাগোয়া স্কারদু বায়ুসেনা ঘাঁটিতে চিন নির্মিত জেএফ-১৭ ফাইটার জেট পাঠাচ্ছে পাক সেনা। ভারতীয় মিডিয়া সংবাদ প্রতিদিন এ খবর দিয়েছে।

ঐ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে খবর অনুযায়ী, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের লাদাখ সীমান্ত লাগোয়া পাক সেনঘাঁটিগুলিতে সক্রিয়তা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। গত শনিবার থেকেই স্কারদু বিমানঘাঁটিতে একাধিকবার অবতরণ করেছে পাক বায়ুসেনার সি-১৩০ পণ্য পরিবহণকারী বিমান। ভারতের সঙ্গে ‘ফরওয়ার্ড বেস’গুলিতে যুদ্ধের জন্য রসদ মজুত করছে পাক সেনা।

গোয়েন্দারা আরও মনে করছেন, ওই ঘাঁটিগুলি থেকে বড়সড় বিমান হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পাক বায়ুসেনা। তবে ভারতীয় সেনার তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে, পাক সেনার গতিবিধি বাড়লেও চিন্তার কিছু নেই। পাক বিমানবাহিনীর সমস্ত গতিবিধি ভারতীয় রাডারে স্পষ্ট ধরা পড়ছে। ফলে কোনও বেগড়বাই করলে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।

ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসের মধ্যে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে গোয়েন্দাদের তরফে। এর মধ্যে শনিবার রাত থেকে কাশ্মীর সীমান্তে ইমরান সরকার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-সহ প্রচুর সেনা পাঠাচ্ছে বলে জানা গেল।

রবিবার টুইট করে মারাত্মক এই দাবি করলেন পাকিস্তানের এক সাংবাদিক হামিদ মীর। তাঁর দাবি, ‘‘কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান সরকার সেনার সংখ্যা বাড়াচ্ছে বলে খবর দিয়েছেন তাঁর কাশ্মীরি বন্ধুরা। গতকাল রাত থেকেই প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র ও কামান নিয়ে পাকিস্তানের সেনাকর্মীরা কাশ্মীর সীমান্তে জড়ো হচ্ছে। আর তাদের দেখে পাকিস্তানের পতাকা নাড়িয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে স্থানীয় কাশ্মীরি। মুখে স্লোগান দিচ্ছে – কাশ্মীর বন গ্যায়া পাকিস্তান।’’ এই টুইটের কথা প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের তরফে নজরদারি চালানো হচ্ছে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। বাড়ানো হয়েছে সেনা জওয়ানদের সংখ্যাও।

এদিকের ভারতে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর, সোমবারই প্রথম জঙ্গিদের সঙ্গে গুলিবিনিময় হল জম্মু-কাশ্মীরে। যদিও, হতাহতের কোনও খবর নেই। কঠোর বিধিনিষেদের মধ্যেই নিঃশব্দে সোমবার সকাল থেকে ঈদ-উদ-জোহা উদযাপিত হচ্ছিল উপত্যকায়।

পুলিশের দাবি, এর মধ্যেই পুলওয়ামায় সশস্ত্র জঙ্গির একটি দল সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, সুরক্ষা বাহিনীর সতর্ক নজরদারিতে জঙ্গিদের পরিকল্পনা শেষপর্যন্ত ভেস্তে যায়। পুলওয়ামায় দু-পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির লড়াই হয়। সংঘর্ষে কোনও জঙ্গি মারা পড়েছে কি না, গভীর রাত পর্যন্ত তা জানা যায়নি।

বাহিনীকে লক্ষ্য করে বেমিনা ও নাটিপাড়ায় এদিন দু’টি ছোটখাটো পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু, বিক্ষোভ দানা বাঁধার আগেই, স্টোন-প্লেটার্সদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

সংসদে জম্মু-কাশ্মীরকে দিখণ্ডিত করে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা ও ৩৭০ ধারা বাতিলের পর আট দিন হয়ে গেল। নিরাপত্তাবেষ্টনীতে মোটের উপর শান্তিপূ্র্ণ রয়েছে কাশ্মীর। সামনে ১৪ ও ১৫ অগস্টে। তারই সুরক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।

জম্মু-কাশ্মীরের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ দিলবাগ সিং বলেন, পুলওয়াময় এদিন জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলি চললেও, সে অর্থে কোনও অপারেশন চালানো হয়নি। পুলিশকর্তা জানান, কাশ্মীরের মানুষ সহযোগিতা করছেন। যে কারণে শান্তির পরিবেশ বজায় রয়েছে।