লাহোরের বিক্ষোভে পুলিশ নিহত, আহত ৪০ কর্মকর্তা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১ | আপডেট: ৫:০৪:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১

পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-লাব্বাইকের (টিএলপি) প্রধান আল্লামা সাদ হুসেইন রিজভীকে আটকের প্রতিবাদে দেশটির শহর লাহোরে দ্বিতীয় দিনের মতো সহিংস বিক্ষোভ করেছে দলের সমর্থকরা। এসময় নিহত হয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন।

জানা যায়, রিজভীকে আটকের প্রতিবাদে আটকের প্রতিবাদে লাহোর ছাড়াও করাচিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এসময় ১ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

এই বিক্ষোভের শিকড় প্রোথিত হয় যখন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) একটি চুক্তি করে টিএলপির সঙ্গে। গতবছরের নভেম্বরে পাকিস্তান থেকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হবে এমন চুক্তি করে পিটিআই। সেই সময়ে মহানবীর ক্যারিকেচার করার অনুমতি দিয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তখন টিএলপি এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে।

যেহেতু ফরাসী রাষ্ট্রদূতকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই টিএলপির প্রধানকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া সরকারের আর কোন উপায় ছিল না।

তবে প্রশ্ন উঠছে কেনো টিএলপির কর্মীদের রাস্তা অবরোধ থেকে বিরত থাকার পরিকল্পনা করা হয়নি? অনেকে মনে করেন, নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগের ভোট ব্যাংককে আটকানোর জন্য টিএলপির কার্যক্রম শুরু হয় অদৃশ্য মহলের হাতে।

এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে বলা যায়, পাঞ্জাব প্রদেশের স্বল্পশিক্ষিত এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে টিএলপির জন্য ব্যাপক সহানুভূতি রয়েছে। ভোটে এই দল পাকিস্তান পিপলস পার্টিকেও পেছনে ফেলে এবং প্রায় সব প্রদেশেই টিএলপির শক্তিশালী অনুসারী আছে।

নওয়াজ মুসলিম লীগের ডানপন্থী ভোট ভাগ করার জন্য তৈরি হওয়া এই ধর্মীয় গ্রুপ এখন রাষ্ট্রের জন্য দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা ধর্মের নামে ঘৃণা ও চরমপন্থা ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে। মোল্লাদের ওপর ভরসা করে নিজের পায়ে গুলি করার একটি ক্লাসিক উদাহরণ এটি। এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা দেশকে শুধু অজ্ঞতা এবং সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।