লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সুজনের বাড়ি শোকের মাতম

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩৯:অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০
ছবি: টিবিটি

এস এম নজরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সুজন মৃধার(২০) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের স্বজনদের কান্না আর আহাজারীতে সেখানকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানের লাশ এনে দেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

গত জানুয়ারী মাসে পরিবারের অভাব মেটাতে কলেজছাত্র লিবিয়া পাড়ি জমান গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাবুল মৃধার ছেলে সুজন মৃধা। সুজনের বাবা একই ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রামের রব মোড়লের মাধ্যমে ছেলেকে লিবিয়া পাঠান। আর জন্য দালালকে তিনি ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দেন।

স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ও কৃষি জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন তিনি। পরে তা তুলে দেন দালালারে হাতে। সুজনকে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে কোন কাজ দেয়নি দালাল চক্র। বরং মেরে ফেলার জন্য ১৭ দিন আগে সুজনকে ওই দেশের মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়।

২৬ মে মানব পাচারকারীরা সুজনের কাছে আরো ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে ভয়েস কল পাঠাতে বলে দেশে। সুজনের বাবার কাছে ওই ভয়েস কলে সুজনকে মারপিট করার ভয়েস পাঠান। তখন সুজনের বাবা তাদের কাছে ১ জুন পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু তার আগেই ওরা সুজনকে গুলি করে হত্যা করে।

ওই দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশী আমীর দালালের মোবাইল ফোন থেকে এই ভয়েস কল পাঠানো হয় এবং সোমালিয়ায় আহমেদ মোহাম্মদ আদম সালামের ব্যাংক হিসেবে মুক্তিপনের টাকা পাঠাতে বলা হয়।

নিহতের মা চায়না বেগম (৪৫) কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরায় দেও। আমার ছেলেকে দালালরা নিয়ে গিয়ে ১৭ দিন কোন খাবার দেয়নি। মারপিট করেছে। পরে মুক্তিপন দাবী করে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি আমার সন্তানের লাশ চাই। আর ঘটনার সাথে জড়িত দালালদের ফাসিঁ চাই। যাতে তারা আর কোন মায়ের কোল খালি করতে না পারে।

একই দাবী জানিয়ে ওই গ্রামের জয়নাল সরদার (৬৫), লিটন মৃধা (৪৫), আকিজুল ইসলাম বাবুল (৬৫) বলেছেন, এই দালাল চক্রের হাতে গোহালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আরো বেশ কিছু যুবক লিবিয়ায় বন্দি আছে। আমরা তাদেরকে উদ্ধারের দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে দালালদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী করছি।

অপরদিকে, একই উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের মোঃ কালাম শেখের ছেলে ওমর শেখ (২২) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লিবিয়ার ত্রিপলি হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছ্নে। কাঠুরীয়া বাবা পরিবারে একটু স্বচ্ছলতার জন্য ছেলেকে ৪ লক্ষ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একই গ্রামের দালাল লিয়াকত মোল্লার মাধ্যমে ছেলেকে লিবিয়া পাঠান। আহত ওমর শেখের পিতা মোঃ কালাম শেখ ও মা শাহিদা বেগম তার আহত ছেলেকে ফেরত চেয়েছেন। একই সাথে তারা মানব পাচারকারী দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবী জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেছেন, আমরা বিষয়টি বিভিন্ন গনমাধ্যম থেকে জেনেছি। বিষয়টি খোঁজ খবর নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। আমরা দালাল চক্র ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আর এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন।