লোহাগাড়ায় বেদে পল্লীতে চলছে শীতার্ত মানুষের আর্তনাদ

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৯:১৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

কাইছার হামিদ তুষার, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : নাগরিকত্ব থাকলেও নেই কোন নাগরিক অধিকার,শীতে মানবেতর জীবনযাপন লোহাগাড়ার বেদে সম্প্রদায়ের লোকগুলোর।

বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই বেদেদের খোঁজ কয়জনই বা রাখে? লোহাগাড়ার বেদে সম্প্রদায়ের লোকগুলোর খবর রাখেনা কেউ।অভিযোগ উপজেলার পদুয়ায় অবস্থিত বেদে পল্লীর লোকগুলোর।

প্রায় ২০ পরিবারের ১০০ বেদে সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পদুয়া এ.সি.এম.উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত জমিদার পুকুর (অদ্দার পুকুর)পাড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পলিথিন দিয়ে মোড়ানো তাদের জরাজীর্ণ বসতি যেন পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কবিতা”আসমানি” এর বাস্তব চরিত্র আসমানিদের কুড়েঘরের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। বেদে পল্লীর লোকগুলোর শীত নিবারণ করার মত শরীরে কোন কাপড় নেই।তাদের শিশুরা শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।করোনার কারণে আয় না থাকায় অনেকের ঘরের খাবার পর্যন্ত নেই। অনেকের কাছে স্বাভাবিক কাপড় ও নেই।

প্রতিবছরের মত এ বছর ও শীত এসেছে। আর এই শীতে সবচেয়ে অসহায় বেদে সম্প্রদায়ের লোকেরা।শীতকাল তাদের জন্য যেন অভিশাপ। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে শীতে কুপোকাত হয়ে শীতকালীন ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে ভোগে তারা। একদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপরদিকে শীতের কারনে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে বিশেষ করে শিশুরা। আর তাদের জন্য নেই শীত নিবারন করার মত কোন কাপড়। যেখানে দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে পারছে না সেখানে শীতের কাপড় যেন আকাশ থেকে চাঁদ নিয়ে আসার মত গল্প।মানবেতর জীবন-যাপন করছে তারা।

বেদে মহিলারা বেশিরভাগ সিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোঁকা ফেলানো এসব করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর কিছু মহিলা মেয়েদর চুড়ি, ফিতা বিক্রি করে থাকে।আর বেদে পুরুষরা সাপের খেলা দেখায় ও কড়ি বিক্রি করে। কিন্তু আধুনিক যুগে মানুষ তাদের কাছে চিকিৎসা করায় না বলে তাদের রোজগার অনেক কমে গেছে। তাই তাদের আয় কমে গেছে। কথা হয় বেদের মহিলা শান্তা ও স্বপ্নার সাথে।

তারা অভিযোগ করেন,কেউ তাদের কোন সাহায্য করে না। কোন ভাতা প্রদান করেনা।শুধু ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা ভোটের জন্য তাদের কাছে এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ভোট শেষে বেদেদের আর কোন খবর নেয় না তারা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু জানান,খোঁজ নিয়ে তাদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।