লোহাগড়ায় খাদ্যগুদামে ধানসংগ্রহে ওসিএলএসডি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: 5:28 PM, July 21, 2019 | আপডেট: 5:28:PM, July 21, 2019
ছবি: টিবিটি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী খাদ্যগুদামে ব্যবসায়ীদের ধান নিতে গিয়ে ধরা খেলেন ওসিএলএসডি আহসান কবীন। জনগনের চাপের মুখে ফেরত দিলেন সিন্ডিকেটের ধানের ট্রাক। যার নং যশোর-ট ১১-৪২৩৬। ট্রাক মালিক হচ্ছেন নড়াইল শহরের চিহিৃত কালোবাজারি অলোক কুন্ডু। ট্রাকের চালক আরিফ শেখ।

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী খাদ্যগুদামে এ ঘটনা ঘটে। কৃষকের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকার কতিপয় ব্যবসায়ী এই খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবীরের জোগসাজসে ট্রাকে করে শনিবার সকালে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে যায়।

স্থানীয় লোকজনের জানাজানিতে ‘সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও নলদী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দুর্বৃত্তায়নের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ঘটনার সময় প্রকৃত কৃষকের ধান না নিয়ে ট্রাকে আসা ধান সংগ্রহে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন খাদ্যগ্রদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তার সহকর্মীরা। কিন্তু স্থানীয় জনগনের চাপে ব্যবসায়ীদের ধান ফেরত দিতে বাধ্য হন।

জনগনের তীব্র রোষানলে পড়ে পরিস্থিতি সামলাতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ফোন দেন। এরপর ওসিএলএসডি হন্তদন্ত হয়ে দ্রুত ধানভর্তি ট্রাক খাদ্যগুদাম থেকে বের করে দেন। ট্রাকভর্তি ধান নেয়ার জন্য কেনইবা এতো আগ্রহ।

আবার কেনইবা তা ফেরত গেলো তার কোন জবাব মেলেনি ওই ওসিএলএসডি’র মুখ থেকে। এক পর্যায়ে নলদী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবীর জানান, কৃষকদের বাড়ি অনেক দুরের পথ, সে কারণে সবাই মিলে ট্রাকে ধান খাদ্যগুদামে এনেছে। এ সময় তিনি বারইপাড়া গ্রামের আফছার নামের একজন কৃষককে দেখিয়ে তার নাম ভাঙ্গিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ধানভর্তি ট্রাক ফেরৎ কেন দিলেন ? এমন প্রশ্নের কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি ওসিএলএসডি।

এ ঘটনা সম্পর্কে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোতোষ মজুমদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রকৃত কৃষক ছাড়া কোন সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়ীর ধান নেয়া হবে না।

ব্যবসায়ীদের ধান হওয়ায় ট্রাকে আনা ধান তিনি ওসিএলএসডি ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। অনুসন্ধানে জানা যায়, বারইপাড়া গ্রামের আফছার, নলদী বাজারের বিশিষ্ট ধান ব্যবসায়ী তৌহিদ, নলদী ইউপি মেম্বর চুন্নু মিয়া ও মেম্বর মোজাফ্ফার সহ কয়েকজনের সাথে খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি আহসান কবীরের জোগসাজসে লাহুড়িয়া এলাকা হতে ওই ট্রাক ভর্তি ধান আনা হয়।

এ সিন্ডিকেটের নিকট হতে কোন মাননিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ধান সংগ্রহ করছেন ওসিএলএসডি। অফিস সূত্রে জানাগেছে, নলদী খাদ্যগুদামে লাহুড়িয়া, নোয়াগ্রাম, শালনগর ও নলদী ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষক থেকে ১৬১ মে.টন বোরো ধান সংগ্রহ করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

কৃষক নির্বাচনে প্রান্তিক এবং মহিলা কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনক্রমেই বিনির্দেশ বহির্ভূত গম, ধান ও চাল সংগ্রহ করা যাবে না। কিন্তু নির্দেশনা মানছেন না ওসিএলএসডি আহসান কবীর। আর্থিক সুবিধা নিয়ে সিন্ডিকেটের ধান কিনছেন। সচেতন মহল তার বিচার দাবি করেছেন।