শাস্তির মুখে ছিলেন ধোনি!

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৬:০৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

হতে পারতেন নায়ক। হয়ে গেলেন খলনায়ক। শেষ দু’বলে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ১ রান। ব্যাট করছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। অহেতুক তিনি যদি তুলে মারতে গিয়ে আউট না হতেন, তাহলে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিত ভারতীয় দল। এশিয়া কাপ ক্রিকেটে সুপার ফোরে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য ২৫৩ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ৪৯.৫ ওভারে ২৫২ রানে অল-আউট হয়ে যায়। ম্যাচটি টাই হয়ে যায়। আফগানিস্তান মনে করছে, এটি তাদের কাছে জয়ের মতোই।

বিগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তান কতটা উন্নতি করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল এশিয়া কাপে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশকে হারানোর পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়াই করেছেন রশিদ খান, আসগর আফগানরা। দু’টি ম্যাচেই শেষ ওভারে অভিজ্ঞতার অভাবে হেরেছে আফগানরা। যা দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে এশিয়ার অন্যতম ক্রিকেট শক্তিরূপে নিজেদের মেলে ধরতে পারবে আফগানিস্তান।

পরিসংখ্যানের বিচারে মঙ্গলবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচাট ছিল ডেভিড আর গোলিয়াথের যুদ্ধের মতো। দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী ‘টিম ইন্ডিয়া’র বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সদ্য হামাগুড়ি দিতে শেখা আফগানিস্তানের লড়াই যে শেষ বল পর্যন্ত গড়াবে, তা অনেকের কল্পনার বাইরে ছিল। তবে ম্যাচ টাই হলেও, ক্রিকেটের জয় হয়েছে বলে অভিমত প্রাক্তন ক্রিকেটারদের।

প্রায় দু’বছর পর দু’শোতম ওয়ান ডে ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পেলেও, জয় অধরা থাকায় কিছুটা হলেও বিরক্ত ধোনি। মূলত আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তিনি বেজায় ক্ষুব্ধ। জাভেদ আহমেদির বলে ফিল্ড আম্পায়ার মাহিকে এলবিডব্লু দিয়ে দেন। লোকেশ রাহুল আগেই রিভিউ নষ্ট করে ফেলেছিলেন। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সন্দেহ থাকলেও ধোনির মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

ইংল্যান্ড সফর থেকেই মাহির ব্যাটে রানের খরা চলছে। এশিয়া কাপেও তিনি প্রত্যাশা পূরণে এখন অবধি ব্যর্থ। ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ধোনি বড় রানের খোঁজে রয়েছেন। আফগানিস্তান ম্যাচকে তিনি বড় রানের মঞ্চ হিসাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত। আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোনি বক্তব্য, আমি আর কী বলব। সবাই তো দেখেছেন। আমি এসব নিয়ে মুখ খুলে জরিমানার মুখে পড়তে চাই না।’

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধোনি কখনো আগ্রাসন দেখান না। তবে আম্পায়ারিং নিয়ে তিনি মোটেই খুশি নন, সেটা ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

আফগানিস্তানের প্রশংসা করে ধোনি বলেছেন, ‘ওরা দারুণ উন্নতি করেছে। এশিয়া কাপের শুরু থেকেই আফগানিস্তান ভালো খেলছে। ওদের খেলা আমিও উপভোগ করছি। আমাদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তান ইতিবাচক ব্যাটিং করেছে। পরের দিকে উইকেট বেশ মন্থর হয়ে পড়েছিল। তবে আফগানিস্তানের বোলারদের লড়াই ছিল প্রশংসনীয়। তবে আমাদের শুরুটা যতটা ভালো হয়েছিল, সেটা পরের দিকে বজায় রাখতে পারিনি। বেশ কিছু শট সিলেকশন ভুল ছিল। তাছাড়া কেদারের রান আউট ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেছে। তবে আমরা যে ভাবে গোটা টুর্নামেন্টে ইতিবাচক মনোবভাব নিয়ে খেলছি, সেটা বজায় রেখেই ফাইনালে মাঠে নামব।’
ফাইনালে তারা খেলবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।