শিক্ষকরাই রাজনীতিবিদ তৈরীর কারিগর: অধ্যাপক শাহ্ আজম

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৯:১৬:অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২২তম ব্যাচের করোনাকালীন পরিস্থিতিতে নিয়মিত আয়োজন ফেইসবুক লাইভ অনুষ্ঠান “দ্যা মার্কেটিং ফ্যামিলি শো” এর দশম এপিসোডে অতিথি হিসেবে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মার্কেটিং বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম শান্তনু।অনুষ্ঠানের রীতি অনুযায়ী সারপ্রাইজ গেস্ট হিসেবে ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী দীপায়ন সরকার দ্বীপ। লাইভ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দ্বায়িত্বে ছিলেন মার্কেটিং ২২তম ব্যাচেরই দুজন শিক্ষার্থী রাফি সামনান ও রিফাত রহমান।

মূলত এই লাইভ অনুষ্ঠানটি আয়োজনের উদ্দেশ্য হল চলমান এই মহামারীতে শিক্ষক শিক্ষার্থীর মেলবন্ধন আরো দৃঢ় করা।সামাজিক এই দূরত্ব যেন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে মনের দুরত্ব তৈরী করতে না পারে সেই লক্ষ্যে ১৯ মে থেকে শুরু হয় “দ্যা মার্কেটিং ফ্যামিল শো” নামের এই লাইভ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অধ্যাপক ড. মোঃ শাহ্ আজম শান্তনু করোনাকালীন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।কিভাবে এই মহামারীতে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম চালু করা যায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা এবং অবদান উল্লেখ করেন।”বাংলাদেশ সরকারের এটুআই এবং ওরেঞ্জ বিডি নামের প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় অনলাইন ক্লাসের জন্য একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা হয়।সেটির নাম দেওয়া হয় ভার্চুয়াল ক্লাস। আমি সেটার ডেভেলপমেন্ট টিমে ছিলাম”-যোগ করেন অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু।

বলে রাখা ভালো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস শুরু করার ব্যাপারে তিনিই প্রথম উদ্যোগটি নেন এবং নিজের বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তা প্রাথমিকভাবে চালু করেন।পরে তা সরকারের নজরে আসা মাত্রই সরকার এটুআই এবং অরেঞ্জ বিডি এর যৌথ উদ্যোগে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

এছাড়াও এই মহামারী পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়াসহ সবার সাথে মানবিক আচরণ করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।

“আপনি স্বচ্ছ রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত আছেন।কখনো কি রাজনীতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছে আছে?” উপস্থাপকের এই প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক বলেন,”শিক্ষকরাইতো একজন রাজনীতিবিদ গড়ার কারিগর। আমিও নিজেও অনেক রাজনীতিবিদকে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছি।

আমি মনে করি,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটা নির্দিষ্ট বিশ্বাস থাকতে হয় ।এসময় তিনি উদাহরণ হিসেবে খুদিরাম বসুর কথা উল্লেখ করেন এবং রাজনীতিবিদ না হয়ে রাজনীতিবিদ গড়ার কারিগর হয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন বলে জানান।

এছাড়াও তিনি এসএমই ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তার অনুরোধে করোনা পরবর্তীকালে এসএমই ফাউন্ডেশনের ভূমিকা কি হতে পারে তা নিয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।

লাইভ অনুষ্ঠানে সারপ্রাইজ গেস্ট হিসেবে যুক্ত হওয়া দীপায়ন সরকার দীপ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কাটানো বিভিন্ন মূহুর্তের কথা তুলে আনেন যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু।