শিক্ষকের ধর্ষণে মা হলো ৫ম শ্রেণির ছাত্রী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ৩:৪৭:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
সংগৃহীত

অবশেষে প্রধান শিক্ষক ও বখাটের দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের শিকার সেই ৫ম শ্রেণির ছাত্রী (১২) সিজারিয়ানের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের মা হয়েছে। মা ও শিশু ভালো আছে বলে জানিয়েছেন শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

এদিকে নির্যাতিত মেয়েটির চিকিৎকার ব্যয়ভার থেকে শুরু করে মামলায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

নির্যাতিতা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল গ্রামের বাসিন্দা এবং সবজি বিক্রেতা ও গৃহপরিচারিকার দম্পতির ৪ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। নির্যাতিতা উপজেলার ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।

গাইনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নাসিরন বলেন, শনিবার দুপুর পৌনে ১২টায় সিজারিয়ানের মাধ্যমে পুত্র সন্তান জন্ম দেয় নির্যাতিত মেয়েটি। নবজাতকের শ্বাস কষ্ট থাকায় তাকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নির্যাতিত মেয়েটি সুস্থ আছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতিতাকে দেখতে হাসপাতালে যান বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। তিনি ওই স্কুল ছাত্রীর চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন এবং মামলার অভিযোগপত্র থেকে কেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের বাদ দেয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান।

প্রসঙ্গত, নয় মাস পূর্বে ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেবা ক্লাস থেকে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. বাবুলের কক্ষে যেতে বলে। এরপর সেখানে গেলে প্রধান শিক্ষক বাবুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

আর বলে দেয় এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। এভাবে প্রায়দিনই বাবুল তাকে ধর্ষণ করত। বাহিরে পাহারায় থাকতো শিক্ষক রেবা। এর মধ্যে তার বাড়ি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জুয়েলও তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। প্রধান শিক্ষকের সাথে সাথে জুয়েলও তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে জানায় মেয়েটি।

জুয়েলও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতো। এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের নাম বলতে নিষেধ করে এবং ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ করেন স্কুল ছাত্রীটি।

দায়সারা গোছের তদন্ত শেষে পুলিশও ওই মামলায় জুয়েল নামে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ওই মামলায় বর্তমানে জুয়েল কারাগারে রয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর রাতে ওই ছাত্রী শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হয়।