‘শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা, ছাত্ররাজনীতিও নিষিদ্ধ হবে‘

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৫:১৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯

আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এক জরুরি সভা মেষে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে সমিতির জরুরি সভা শেষে এ ঘোষণাটি দেন সমিতিরি সভাপতি একেএম মাসুদ।

সভাপতি বলেন, আমরা শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। ভবিষ্যতে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হবে।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। সকাল থেকে বুয়েটের শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

দাবিগুলো হল, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, মামলা চলাকালে সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে, দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে, অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিসিয়াল নোটিশ দিতে হবে, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি, তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে, একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, এ বিষয়ে তাকে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

এছাড়া আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর,২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে, পূর্বে ঘটা এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ ও পরবর্তী সময়ে ঘটা যে কোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম বা সাইট থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

বুধবার সকাল থেকে শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় নতুন করে দেওয়া ১০ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।

এ ছাড়া মামলার সব খরচ ও আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে বলেও তারা জানান। মামলাটি দ্রুততম ট্রাইব্যুনালে অধীনে দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা করতে হবে বলেও দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।