শিক্ষার্থীদের বিরিয়ানি খাইয়ে প্রধান শিক্ষক আটক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৩৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

বগুড়ার সদর উপজেলার পীরগাছায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের গরুর মাংসের বিরিয়ানি খাওয়ানোর অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক হয়েছেন।

রোববার বিকেলে বগুড়া সদর উপজেলার পীরগাছা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক আব্দুল হান্নান বগুড়া সদরের পীরগাছা এএফ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

এর আগে রোববার দুপুর থেকে প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পুলিশ খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে প্রধান শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বগুড়া সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার রায় জানান, শনিবার পীরগাছা এএফ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর এমপিকে সংবর্ধনা ও মা সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা বিরিয়ানির প্যাকেট ছাত্রীদের জন্য এবং অভিভাবকদের জন্য নাস্তার প্যাকেট সরবরাহ করা হয়। শনিবার সন্ধ্যার পর এলাকায় জানাজানি হয় বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সনাতন ধর্মাবলম্বী ৪২ জন ছাত্রীকেও গরুর মাংসের বিরিয়ানি দেয়া হয়। এ নিয়ে শনিবার রাত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ৪২ জন ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় ঘেরাও করা হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষুব্ধরা প্রধান শিক্ষককে আটকের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

খবর পেয়ে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ সময় প্রধান শিক্ষক উপস্থিতি কর্মকর্তাদের কাছে গরুর মাংসের বিরিয়ানি সরবরাহ করার কথা স্বীকার করেন। পরে জনগণের দাবির মুখে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানকে পুলিশ আটক করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, গরুর মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাকে জানাননি। ছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য ৮০০ প্যাকেট নাস্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

বগুড়া সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার রায় বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ দায় এড়াতে পারেন না। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রতিটি ক্লাস থেকে প্রধান শিক্ষক ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন। সে বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জানেন।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দিলীপ কুমার দেব জানান, স্কুলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক গরুর মাংস দিয়ে খাবার রান্না করতেন। এ বিষয়ে হিন্দু অভিভাবকরা তাকে বারণ করে মুরগির মাংস দিয়ে খাবার তৈরির জন্য বলেছেন, কিন্তু তিনি শোনেননি। তাই হিন্দু অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

বগুড়া সদর থানা পুলিশের ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা হবে। আটকের পর প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেছেন তিনি ৭ কেজি গরুর মাংস কিনেছিলেন। হিন্দু ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হবে।