শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটসহ জিনিসপত্র ময়লার গাড়িতে তুলে দিলেন বাড়িওয়ালা

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০ | আপডেট: ৯:১৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

বা‌ড়ি ভাড়া দিতে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীর সারাজীবনের অর্জন তার সার্টিফিকেট, মূল্যবান জিনিসপত্র, বইসহ সবকিছু সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে তুলে দেন বাড়িওয়ালা। যখন জানতে পারলো সাথে সাথেই ঢাকা চলে এসে দেখে জিনিসপত্র কিছুই নেই বাড়িওয়ালা সব ফেলে দিয়েছে। নিজের এত বছরের অর্জিত সব সার্টিফিকেট তার সাথে মূল্যবান সব জিনিসপত্র হারিয়ে অস্রুসিক্ত নয়নে কেঁদে উঠে ঢাকা কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সজীব৷

এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ৪/এ, ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিট-এর রুবী ভবনের মালিক মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চন।

অশ্রুসিক্ত হয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন ঢাকা কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সজীব। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সারা জীবনের অর্জন তার সার্টিফিকেট, সেই সার্টিফিকেট ও মূল্যবান জিনিসপত্রসহ সবকিছু সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে তুলে দিয়েছে ওই বাড়িওয়ালা৷ যখন জানতে পারলাম সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা চলে আসি৷ এসে দেখি জিনিসপত্র কিছুই নেই বাড়িওয়ালা সব ফেলে দিয়েছে।

তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে থাকতেন রাজধানীর কলাবাগান এলাকার ৪/এ, ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিট-এর রুবী ভবনের নিচতলায়৷ শুধু সজীব-ই নয়, মেসে থাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ল্যাপটপসহ শিক্ষাজীবনে অর্জিত মূল্যবান সব সার্টিফিকেট হারিয়েছেন একই ফ্ল্যাটে থাকা আরও ৮ শিক্ষার্থী ৷

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর জিনিসপত্রসহ ফ্ল্যাটে ব্যবহৃত সবকিছু বাসা থেকে বের করে তুলে দেয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে৷ আর কাজটি করেছেন বাড়িওয়ালা মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চন ৷ খবর পেয়ে ওইসব শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকা থেকে ফ্ল্যাটে আসলেও ঢুকতে পারেননি তারা। পাননি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও৷

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী সজীব আরও বলেন, মার্চের ৫ তারিখ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করে আমরা বাড়ি চলে যাই৷ এরপর বাড়িওয়ালা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বিল বাবদ আরও ১৫ হাজার টাকা মোবাইলে পাঠাই৷ বাকি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে ঢাকায় এসে পরিশোধ করার কথা ছিল৷ টাকা পাঠানোর পরেই বাড়িওয়ালা আর ফোন রিসিভ করে না। পরে জানতে পারি আমাদের মালামাল সব ফেলে দেয়া হয়েছে৷ ঢাকায় ফিরে কিছুই আর অবশিষ্ট পায়নি৷ আমরা আমাদের সার্টিফিকেটসহ জিনিসপত্রগুলো ফেরত চাই। আমরা এর বিচার চাই।

বাড়িওয়ালার এমন অমানবিক আচরণে ভুক্তভোগীর তালিকায় রয়েছেন চার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীও৷ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে এই শিক্ষার্থীদের খোয়া গেছে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড৷ এখন পরীক্ষায় অংশ নেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এসব শিক্ষার্থী৷

বিষয়টি জানতে বাড়ির মালিক মুজিবুল হক ওরফে কাঞ্চনকে একাধিকবার ফোন করলেও তার মোবাইল ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়৷

এই ঘটনায় মামলা হয়েছে জানিয়ে নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে৷ আমরা অভিযুক্ত বাড়ির মালিককে ধরতে তার বাসায় অভিযান চালিয়েছি, আসামিকে পাওয়া যায়নি। আসামিকে ধরতে চেষ্টা চলছে।