শিবসা ব্রীজ-বেতবুনিয়া সড়কের ৮ কিমি রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী

প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৭:১০:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

শেখ দীন মাহমুদ, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছার শিবসা ব্রীজ-বেতবুনিয়া অভিমূখে প্রধান সড়কের প্রায় ৮ কি:মি: রাস্তা দীর্ঘ দিন যাবৎ চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার অধিকাংশ এলাকার পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দিন সংষ্কারের অভাবে চলতি বর্ষা মৌসুমে গর্তে পানি জমি তার উপর দিয়ে অনবরত বিভিন্ন গাড়ির চাকা পড়ে তা প্রসারতা পেয়ে রীতিমত খাঁদের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটিতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের নিরবতায় জনদূর্ভোগ চরমে পৌছেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের শিবসা ব্রীজ থেকে বেতবুনিয়া অভিমুখে প্রধান সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তারর এমন ভয়াবহ অবস্থার জন্য স্থানীয়রা সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করছেন।

এলাকাবাসী জানায়, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। চলাচল করে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শতশত মটরসাইকেল, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, নছিমন, করিমন পাইকগাছার পৌর সদর হতে বেতবুনিয়া বাজার ভায়া সোলাদানা পর্যন্ত চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরী হওয়ায় দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।

চরম দুর্দশায় গত প্রায় ৩ বছর পূর্বে রাস্তাটি নাম মাত্র সংস্কার হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ঠিকাদারের দায়সারা কাজে কিছু দিনের মধ্যে রাস্তাটির অবস্থা ফিরে আসে তার পূর্বর অবস্থানে। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, রাস্তার দু’পাশে চিংড়ী ঘের এবং সেখানে রিংবাঁধ না থাকায় বাতাসে প্রতিনিয়ত ঘেরের পানি এসে বাড়ি দেয় সরাসরি রাস্তায়। এতে রাস্তার দু’পাশ অবিরাম ক্ষয় ও রাস্তা প্রায় সময় লোনা পানিতে ভিজে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সড়কের বিভিন্ন এলাকায় পিচ, ইট, খোঁয়া উঠে খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তার যত্রতত্র পানি জমে থাকে। এরপর ছোট ছোট গতে অবিরাম বিভিন্ন গাড়ির চাকা পড়ে তা সম্প্রসারিত হয়ে পরিণত হয়েছে বড় বড় খানা-খন্দকে। এতে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যানবাহন, তেমনি ছোট-বড় দূর্ঘটনায় নিয়মিত আহত হচ্ছে পথচারীরা। সর্বশেষ অবস্থা এতটাই নাজুক যে, কোন কোন এলাকা থেকে বাহন থেকে যাত্রী নামিয়ে ঠেলে উঠানো বা পার হতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী লতা, দেলুটি, গড়ইখালীসহ পার্শ্ববর্তী দাকোপ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন চিংড়ি চাষের উপর নির্ভরশীল। বছরের মৎস্য উৎপাদন মৌসুমে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উৎপাদিত মাছ এই একটি মাত্র রাস্তা দিয়ে পাইকগাছা সদরে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় এলাকার উন্নয়ন কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উপকরণ সামগ্রী পরিবহনে বড় বড় ট্রাক’র অনুপ্রবেশ করান। তবে বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসীর ভোগান্তির আর অন্ত থাকেনা। রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় খানা-খন্দকের নিকট পৌছালে যানবাহন হতে মালপত্র নামিয়ে খানা-খন্দক পার হয়ে পুনরায় উঠাতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে তৃণমূলের ব্যস্ততম সড়কটি এক সময় একবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশংকা করছেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান লাভলু।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম এনামুল হক জানান, সোলাদানা ইউনিয়নের প্রধান সড়কে স্থানীয় কতিপয় ঠিকাদাররা রড, সিমেন্ট ও ইট বালি বোঝাই ভারি ট্রাক অনায়ন করে রাস্তাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। নিষেধ করলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে ভারী যানবাহনে মালামাল বহন করে রাস্তাটির এই করুণ অবস্থা করেছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি মেরামতের জন্য এলাকাবাসী কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।