আপনাদের সাহায্য প্রাণে বাঁচতে পারে শিশু সাদিয়া

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৯:১৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯
ছবি: সংগৃহীত

সকাল হলেই পোশাক পড়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হয় আট বছর বয়সী শিশু সাদিয়া আক্তার। ক্লাসের প্রথম বেঞ্চে বসার জন্য তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে না খেয়ে স্কুল চলে যায় সে। কয়েকমাস আগেও হৈ-হুল্লোড়ে স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে সহপাঠীদের মাতিয়ে রাখতো সে। তার চঞ্চলতায় মুগ্ধ হয়ে প্রতিবেশীরাও তাকে খুব আদর করতো। কিন্তু সেই মেয়েটির জন্য এখন সবার চোখে পানি। গলায় ক্যান্সার হয়েছে সাদিয়ার!

একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন দরিদ্র বাবা-মা। কিন্তু অর্থের কাছে অসহায় বোধ করছেন তারা। মেয়ের এমন করুণ অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। চঞ্চল মেয়ের জন্য এক সময় বিরক্ত হলেও এখন শুধু কাঁদছেন তারা।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের আনকুটিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের হোটেল শ্রমিক রিয়াজ উদ্দিন ও গৃহবধূ বিথী আক্তার দম্পতির একমাত্র মেয়ে সাদিয়া। সে আনকুটিয়া নঈম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার এমন অসুখের কথা শুনে কাঁদছেন সহপাঠী, শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরাও। স্কুলে যাওয়া বা খেলাধুলার বদলে যন্ত্রণায় কাঁতর সাদিয়ার বেশিরভাগ সময় কাটছে হাসপাতালের বিছানায়। এখন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শিশুটি।

অর্থাভাবে থেমে যেতে বসেছে সাদিয়ার জীবন। বর্তমানে শিশুটি রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ তৌফিকের অধীনে চিকিৎসাধীন।

বাবা রিয়াজ উদ্দিন জানান, শুরুর দিকে জ্বর হতো সাদিয়ার। দুই পাশের গলা ফুলে যেত। নাক দিয়ে রক্ত ঝরতো। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর সেরে উঠতো। এভাবে চলে প্রায় চার বছর কেটে যায়। তিন মাস আগে হঠাৎ করেই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে সাদিয়াকে ঢাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গ্ল্যান্ড (গলায়) ক্যান্সার ধরা পড়ে।

মেয়ের এমন রোগের কথা শুনে হতাশ হয়ে পড়েন বাবা-মা। চিকিৎসক কোমো দেয়ার কথা বললে অর্থাভাবে সাদিয়াকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন তারা। এরপর আবারও সে গুরুতর অসুস্থ হলে পুনরায় ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে শিশুটিকে ভর্তি করা হয় আইসিইউতে। এরপর কিছুটা সুস্থ হলে পরপর তিনটি কেমো দেয়া হয়।

এদিকে সাদিয়ার পুরোপুরি সুস্থ হতে প্রয়োজন আরও প্রায় ৫ লাখ টাকা-এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসক। একজন হোটেল শ্রমিক বাবার পক্ষে যা জোগাড় করা কোনোমতেই সম্ভব নয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালী মানুষের সহায়তা চেয়েছেন শিশুটির পরিবার।

সাদিয়ার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে চাইলে তার বাবা রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে ০১৩১০-৯০৫৩৩৩ (বিকাশ পার্সোনাল)।

– জাগো নিউজ