“শুধু রিকশা নয়, উবার-পাঠাওয়ের মত সেবাও রাজধানী থেকে তুলে দেয়া উচিৎ”

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৩৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

দূর্জয় মামুন, বিশেষ সংবাদদাতা: ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেওয়া আমি মনে করি ১০০% ভালো সিদ্ধান্ত। সেই সাথে আমি মনে করি ঢাকা শহরে পাঠাও-উবারের মতো যে সকল প্রাইভেট কার বা বাইক ভাড়ায় চলছে, তা যদি এখনি বন্ধ না করে দেওয়া হয় তাহলে আগামীতে ঢাকা শহরের রাস্তা থেকে শুরু করে বসবাস ভয়ানক আকার ধারণ করবে।

যে সকল কারণে উবার-পাঠাওসহ সকল ধরণের রাইড শেয়ারিং সার্ভিস তুলে দিতে সরকার দৃষ্টিপাত কামনা করছি, সেগুলো হলো-

১. পাঠাও উবার এর কারণে মানুষ অতি আগ্রহের সাথে ঢাকামুখী হচ্ছে।

২. যার গ্রামে একটা বাইক বা গাড়ি আছে সেই ঢাকাতে ছুটে চলে আসছে।

৩. গ্রামে অশিক্ষিত বেকার গাড়ি চালানোর কোনো শিক্ষা নাই এমন লোক ও ঢাকাতে এসে কোনো রকম গাড়ি চালানো শিখে টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স করে গাড়ি চালাতে শুরু করেছে। ফলে তার গাড়ি চালানোতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় এক্সিডেন্ট বেড়ে চলেছে।

৪. সেদিন একজন উবার ড্রাইভার বলছেন আমি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকি ২৬ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়ে। শুনে আমি তো মহা খুশি হলাম।

৫. উবার বা পাঠাও ম্যাপ দেখে দেখে তারা গাড়ি চালায়। সামনে দেখে গাড়ি চালানোর দিকে তাদের মনোযোগ নেই। ফলে এক্সিডেন্ট হবার মতো ঘটনা ঘটছে।

৬. গাড়ি তে যাত্রী থাকা অবস্থায় একটা রানিং অবস্থায় আরেকটা রিকোয়েস্ট আসে ফলে ড্রাইভার গাড়ি চালানো অবস্থায় আরেকজন যাত্রীর সাথে ফোনে কথা বলছে। তাতে করে তার গাড়ি চালানোতে মনোযোগ থাকে কি না আমার জানা নাই।

৭. মাঝে মাঝেই শোনা যাই পাঠাও উবারের যাত্রীদের হয়রানি করে ড্রাইভার।

৮. কারো কাছে ৪/৫ লক্ষ টাকা থাকলেই সে এখন ইনকাম সোর্স হিসেবে হয় পুরাতন তা-না হলে কিস্তিতে নতুন গাড়ি কিনে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে।

৯. ১০০/২০০ টাকা বা তার থেকেও কম বা বেশি টাকায় গাড়ি পাওয়াতে সবাই সেদিকে ঝুকছে। ফলে যেখানে বাস বা অন্য কোনো মাধ্যমে যাওয়া যেতো সেখানে একজনের জন্য একটি গাড়ি রাস্তায় আরো চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

১০. অদক্ষ লোক গ্রামের কৃষি কাজ ছেড়ে ঢাকাতে পাড়ি দিচ্ছে পাঠাও বা উবার এজাতীয় কাজের জন্য।

*ফলে গ্রামের কৃষি কাজে জনবল না থাকায় কৃষি কাজে ভয়ানক ভাবে কৃষক সমাজ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে এবারের ধান কাটার বিষয় টি দেখতে পারেন।

১১. শিক্ষিত যুব সমাজ কে তাদের কর্ম সংস্থান ও জেলা ভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। যাতে করে একজন শিক্ষিত ছেলে বা মেয়ে লেখা পড়া শেষ করে তার নিজ এলাকায় থেকে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারে। পড়া লেখা শেষ করে যারা ঢাকাতে থাকে তারা ঢাকাতেই থেকে যাচ্ছে বা পড়া লেখা শেষ করে ভালো চাকরির আশায় ঢাকায় আসছে।

যদি নিজ নিজ এলাকায় চাকরির সুযোগ থাকে তাহলে আমার মনে হয় ৬০% মানুষ তার নিজ এলাকায় থাকতে চাইবে। যদি নিজ এলাকায় চাকরির সুযোগ থাকে তাহলে ঢাকাতে ৫০% লোক কমে যাবে। আর দৈনন্দিন জীবনের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা জেলা ভিত্তিক করতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে।

১২. জনগণ কে জনশক্তিতে রুপান্তর করতে হবে। যে যে-ই কাজে পারদর্শী তাকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে হবে।

১৩. সড়ক এবং মহাসড়ক থেকে সব ধরনের অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ করতে হব। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে।

*একসময় একজন কৃষকের দিনে মজুরী ছিলো ৫০/৭০ টাকা। আর এখন ৫০০/৭০০ টাকা দিলেও কৃষিকাজে জনবল মেলেনা।

* ঢাকা শহরে এমনিতেই যে পরিমাণে যানজট লেগে থাকে তার উপর যদি আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে থাকে তাহলে আগামী হয়ে উঠবে ভয়াবহ।

আমরা আমাদের বাংলাদেশকে ভালোবেসে আমাদের শহরকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে চাই আগামীর জন্য।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ টুডে এবং বাংলাদেশ টুডে-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)