শুভ জন্মদিন বাংলা চলচিত্রের প্রবাদ পুরুষ জহির রায়হান

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৯:০৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

চলচ্চিত্র পরিচালক, উপন্যাসিক, গল্পকার ও সাংবাদিকসহ সব পরিচয়েই তিনি সবার কাছে পরিচিত। তবুও সকল কিছু ছাপিয়ে তিনি একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা। বাংলা চলচ্চিত্র এবং জীবনস্পর্শী প্রতিবাদী সাহিত্য ধারার এক গুণী শিল্পী। হ্যা, তিনি জহির রায়হান। ১৯ আগস্ট গুণী এই ব্যক্তির ৮৪তম জন্মদিন গলো।

১৯৩৫ সালের ১৯ আগষ্ট বর্তমান ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫০ সালে যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি।

১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। তার রচিত আলোচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে আছে ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘বরফ গলা নদী’ ও ‘আর কতদিন’। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন এ তুখোঁড় এই সৃষ্টিশীল মানুষটি।

১৯৫৭ সালে পরিচালক এ জে কারদারের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে জগতে প্রবেশ করেন জহির রায়হান। ১৯৬০ সালে ‘কখনো আসেনি’ সিনেমা নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তারপর একে একে নির্মাণ করেন ‘সোনার কাজল’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘সঙ্গম’, ‘বাহানা’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’ মত কালজয়ীসব সিনেমা।

জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন যার ফলে ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। যার ছাপ দেখা যায় তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ তে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর সময় তিনি চলে যান ওপার বাংলায়। সেখানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার অভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। কলকাতায় বাংলাদেশের সিনেমার এই প্রাণপুরুষ পাকিস্তানের সেনা বাহিনির অত্যাচারকে কেন্দ্র করে তৈরি করেন প্রামাণ্যচিত্র ‘stop genocide’ এবং ‘birth of a nation’।

১৯৬৫ সালে তিনি ‘কাঁচের দেয়াল’ সিনেমার জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসরকারি সম্মাননা ‘নিগার পুরস্কার’-এ শ্রেষ্ঠ পরিচালক নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি পদক লাভ করেন। ১৯৭২ সালে রাশিয়ার তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘স্টপ জেনোসাইড’ বিশেষ পুরস্কার লাভ করে।

হঠাৎই একদিন এই হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি হারিয়ে যায়। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি, এরপর আর ফিরে আসেননি জহির রায়হান। তবে, বাংলা চলচ্চিত্রে রয়ে গেছেন এক অমর অক্ষয় নাম হিসেবে। আমাদের একজন জহির রায়হান ছিলেন- এটিই গর্ব করার মতো বিষয়।