‘শূকরের চর্বি থাকা’ ভ্যাকসিন নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২১

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে কয়েকটি কোম্পানি ভ্যাকসিন বাজারজাত করেছে। জানা গেছে, এসব ভ্যাকসিনে শূকরের চর্বি থেকে তৈরি জেনিটিন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, মানবদেহে এ ধরনের ভ্যাকসিন প্রয়োগ ইসলামের দৃষ্টি জায়েজ কিনা?

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে শূকর অপবিত্র প্রাণী। শূকরের মাংস খাওয়া মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। এ প্রাণীরই চর্বি থেকে তৈরি জেনিটিন ব্যবহার করা হচ্ছে কোভিড ভ্যাকসিনে।

এমতাবস্থায় ভ্যাকসিন ব্যবহার সম্পর্কে আলেমরা দুই ধরনের মত দিয়েছেন।

১. শূকরের মৌলিকত্ব দূর হয়ে গেলে আপত্তি নেই

সম্প্রতি এক প্রশ্নোত্তর পর্বে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, প্রক্রিয়াজাত করলে কোনো কোনো জিনিসের মৌলিকত্ব নষ্ট হয়ে যায়। যদি প্রসেসিং করার ফলে শূকরের চর্বি থেকে তৈরি জেনিটিনের মধ্যে শূকরের মৌলিক বৈশিষ্ট দূর হয়ে যায় তাহলে এ ভ্যাকসিন ব্যবহারে শরিয়েতের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি থাকবে না।

২. চিকিৎসার জন্য অপবিত্র বস্তু ব্যবহার জায়েজ

ইসলামী শরিয়তের একটি স্বীকৃত নিয়ম হলো, জরুরি অবস্থায় কিংবা নিরুপায় হয়ে গেলে হারাম বস্তু বা খাদ্যসামগ্রী সাময়িক সময়ের জন্য ব্যবহার করা জায়েজ।

সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেছেন, ফামানিদতুররা গায়রা বাগিও ওয়ালা আদিন ফালা ইছমা আলাইহি।

অর্থ: যদি তোমাদের আর কোনো বিকল্প না থাকে আর তোমরা জীবন বাঁচানোর জন্য হারাম খাদ্য খাও, তাহলে তোমাদের কোনো গোনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরা বাকারাহ: ১৭৩)।

সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতেও আল্লাহ তায়ালা একই কথা বলেছেন। বাধ্য হয়ে বিকল্প না থাকলে হারাম বস্তু খেলে বা ব্যবহার করলে কোনো গোনাহ হবে না। এই দুই আয়াতের আলোকে সব ফকিহ একমত, হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, হালাল চিকিৎসা হাতের নাগালে না থাকা। (ফিকহুস সুন্নাহ)।

সূত্র: ২৪ লাইভ নিউজ।