শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কারণ অজানা

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৪৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৮

পুঁজিবাজারে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে চলেছে। লেনদেন শুরুর পর কোন না কোন সময়ে দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার। এ সময় শেয়ারের বিক্রেতার অভাবে লেণদেন বন্ধ থাকার মতো ঘটনাও ঘটে।

পুঁজিবাজর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোম্পানিগুলোকে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন সংবেদনশীল তথ্য দিতে পারছেনা কোম্পানিগুলো। এর অর্থ কোন সংবেদনশীল তথ্য না থাকার পরও এসব কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে চলেছে যা কোনভাবেই স্বাভাবিক নয়।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কমপক্ষে ৯টি কোম্পানি লেনদেনের কোন না কোন পর্যায়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছে যায়। এর মধ্যে দু’টি কোম্পানির বিক্রেতা ফিওে এলও বাকিগুলো দিনের শেষ পর্যন্ত বিক্রেতাশুন্য ছিল। দিনের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার লেনদেনের ৩ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রেতা উধাও হয়ে গেছে ৯ কোম্পানির । এতে কোম্পানিগুলোর শেয়ার মূল্য স্পর্শ করছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপোলো ইস্পাত, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ন্যাশনাল ফিড মিল, অলিম্পিক অ্যাক্সেসরিজ, সেন্ট্রাল ফার্মা ও মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।

এদের মধ্যে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে এক পর্যায়ে বিক্রেতা ফিরে এলেও অন্যান্য কোম্পানিগুলোর লেনদেনের শেষদিকেও বিক্রেতা ছিলনা। দিনশেষে উল্লিখিত কোম্পানিগুলো শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি হার ছাড়িয়ে যায় ৯ শতাংশ।

বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের স্ক্রিনে ২৮ হাজার ৯৯০টি শেয়ার কেনার আবেদন থাকলেও বিক্রেতার ঘর শূন্য ছিল। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ১৯৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। গতকাল এই শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ১৮৯ টাকা ৬০ পয়সা। একই সময়ে অ্যাপোলো ইস্পাতের স্ত্রিনে এক লাখ ৬ হাজার ৮২৭টি শেয়ার কেনার আবেদন থাকলেও বিক্রেতার ঘর শূন্য ছিল। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ১০ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। রোববার এই শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৯ টাকা ২০ পয়সা।

একই সময়ে খান ব্রাদার্স ন্যাশনাল ফিড মিল, অলিম্পিক অ্যাক্সেসরিজ, সেন্ট্রাল ফার্মা ও মিথুন নিটিংয়ের স্ক্রিনে অসংখ্য ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা নেই।

অপরদিকে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজে দিনের শুরুতে বিক্রেতা না থাকলেও বেলা ১২টার পর বিক্রেতা ফিরে আসে। এতে সার্কিট ব্রেকারের আগের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে। রোববারও সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দওে ছিল অলটেক্সের শেয়ারদর। এছাড়া বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ক্রেতা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন টানা দরপতনের শিকার কোম্পানিটি এক পর্যায়ে দিনের সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করে। রোববার ২১৯ দশমিক ৫০ টাকায় লেণদেন শেষ করা কোম্পানিটির শেয়ারদও এ সময় ছিল ২৩৮ দশমিক ৭ টাকা। তবে কিছুক্ষনের মধ্যেই বিক্রেতা ফিরে আসে। তবে লেনদেনের শেষদিকে আবারও বিক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ে কোম্পানিটি।

এদিকে সংশোধন শেষ করে গতকাল আবার মূল্যবৃদ্ধির ধার্রায় ফিরতে দেখা যায় পুঁজিবাজারকে। দেশের দুই পুঁজিবাজারই এদিন সূচকের উন্নতি ধরে রাখে। আগের দিন ব্যাপকভাবে দর হারানো ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কোম্পানিই ফিরে পায় হারানো দর যা দিনের সূচককে এগিয়ে নেয়। এছাড়া অন্যান্য খাতগুলোতেও কমবেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটে রোববার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এ সময় ৩০ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ৪১০ দশমিক ৮১ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি সোমবার দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৪৪০ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে। একই সময় দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই-শরিয়াহয় যোগ হয় যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪৫ ও ৬ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৭৭ ও ৪৬ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ৬ দশমিক ২১ ও ৭ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

ডিএসই’র লেনদেনে শীর্ষস্থানটি মঙ্গলবার ছিল খুলনা পাওয়ারের দখলে। ৭৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৫৬ লাখ ১৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাক্যায় ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩২ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ড্রাগন সোয়েটার ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ইউনাইটেড পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাকটিভ ফাইণ কেমিক্যালস, সিঙ্গার বাংলাদেশ, বিবিএস ক্যাবলস, ইফাদ অটোস, কনফিডেন্স সিমেন্ট ও নুরানি ডাইং।