সংখ্যালঘুদের সতর্ক থাকার পরামর্শ কাদেরের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১৩:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮
জন্মাষ্ঠমীর অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের। ছবি-সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার রাজধানীর পলাশী মোড়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনাদের কি ২০০১ সাল মনে আছে? বিএনপির মত সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলে বিভীষিকা এবং অন্ধকার নেমে আসবে। মাইনরিটিরা, সনাতন ধর্মামম্বলীরা সারা দেশে নিপীড়িত হয়, নির্যাতিত হয়, ধর্ষিত হয়।

তিনি বলেন, ‘ফাহিমার কথা, পূর্ণিমার কথা কি আপনাদের মনে আছে? কত হিন্দু রমণীকে পৈশাচিকভাবে ধর্ষিত করেছে ওই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। কত হিন্দু পরিবার তাদের বাড়ি ঘর হারিয়েছে। হিন্দুদের উপর নির্যাতন করে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মনে আছে আপনাদের সেই নির্যাতনের কথা? আমি আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি’।

সনাতন ধর্মামম্বলীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সতর্ক থাকবেন। এবার যদি সেই অপশক্তি আবার ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে ২০০১ সালের চেয়ে ভয়াবহ সময় আপনাদের জন্য হতে পারে। এই অপশক্তিকে পরাজিত করেতে হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে’।

তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের আত্মমর্যাদা, আপনাদের সম্মান, এদেশের নাগরিক হিসেবে আপনাদের অধিকার রক্ষা করতে চান তাহলে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাদের পরাজিত করার শপথ আপনাদের নিতে হবে’।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে দেশের সম্পর্ক নষ্টের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, সেই অপশক্তি নির্বাচনে হেরে যাবে এই ভয়ে আগামী নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত হিসেবে আপনাদের দুর্বল ভেবে আঘাত দেবে। ভারতের সাথে যে সুসম্পর্ক বিরাজমান, সেই সুসম্পর্ক বিনষ্ট করার চক্রান্ত করবে। আজকে আমাদের এই সম্পর্ক, কম্প্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ বজায় রাখতে হবে।

দেশের শত্রুদের প্রতিহতের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা মনে রাখবেন এই দেশে দু’ধরণের শত্রু আছে। একটি প্রকাশ্য শত্রু অপরটি গোপন শত্রু। আমি প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে গোপন শত্রুকে ভয় পাই। এখন ছদ্মবেশী গোপন শত্রুরা তৎপর। এদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে।

বিএনপির জাতীয় ঐক্যকে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা কোন জাতীয় ঐক্য নয়, এটা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। জাতীয় ঐক্যের নামে বিএনপি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ডাক দিয়েছে। এর ফাঁদে আপনারা পা দিবেন না। এটাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, কেউ কেউ বলছেন আগামী নির্বাচন নাও হতে পারে। এটা তারাই বলছে যারা ১/১১ এর সময় বিপলিটিসাইজ, বিরাজনীতিকরণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তারাই আবার সেই পুরনো সুরে ‘কে যেন ডাকে সুরে’ স্লোগান তুলছেন। এসবে কাজ হবে না। জনগণই ভোটের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াবে, তাদের প্রতিরোধ করবে।

নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের মন্ত্রীরা রুটিন ওয়ার্ক করবে জানিয়ে কাদের বলেন, আগামী ৯ তারিখে পার্লামেন্ট অধিবেশন। এটাই পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশন। যারা পার্লামেন্ট নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই পার্লামেন্টের পর আর কোন অধিবেশন বসবে না। নির্বাচন কালীন সরকার যখন দায়িত্ব পালন করবে, মন্ত্রী এমপি কারো ক্ষমতা থাকবে না। মন্ত্রীরা শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। কোন এমপির ক্ষমতা থাকবে না। এই নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শৈরন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ হাজী সেলিম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ।