সংবিধান প্রণেতা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আজ দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবস

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৬:২৭:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রবীণ রাজনীতিক বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও সংবিধান প্রণেতা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবস আজ মঙ্গলবার।

৭১’এর মুক্তিযোদ্ধে এ বর্ষীয়ান সূবক্তা রাজনীতিবিদ ৫নং সেক্টরের ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেষা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট ৪নং সাব সেক্টরের অধীনে রণাঙ্গনে একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসাবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্বশ্রস্ত্র প্রতিরোধে ও মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক হিসাবে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন।

২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী ভোররাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫মে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পরে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থি রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। পরে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে ন্যাপ থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধান প্রণেতা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এই রাজনৈতিক নেতা।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদের সদস্য থাকাকালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সুরঞ্জিত প্রথমে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে সভাপতি মন্ডলীর সদস্য হন।
১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ -২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে হেরে গেলেও পরে হবিগঞ্জের একটি আসনে উপনির্বাচন করে বিজয়ী হন তিনি। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন তিনি।

২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও সুনামগঞ্জ -২ (দিরাই-শাল্লা) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান।
২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর নবগঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে তিনি আইন মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ২০১২ ও ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দুটি সম্মেলনেই দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন দলের মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলীয় এসব পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি।

তার মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনেও সুনামগঞ্জ -২ (দিরাই-শাল্লা) আসন থেকে এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তার পত্নী ড. জয়া সেনগুপ্তা সংসদ সদস্য নিবৃাচিত হয়েছে।