সখীপুরের বহুরিয়ায় ৪০ লাখ টাকার একটি সড়ক ম্যাপে পাকা থাকলেও সড়কে দেখা নেই ইট-বালির

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০ | আপডেট: ৭:২১:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

নজরুল ইসলাম নাহিদ,সখীপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ৮নং বহুরিয়া ইউনিয়নের একটি সড়ক ম্যাপে পাকা থাকলেও সড়কে নেই ইট-বালির দেখা। কালিদাস থেকে বেলতলী পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের ঠকানিয়াপাড়া থেকে ৮১০ মিটার ম্যাপে পাকা দেখানো হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থ বছরে প্রায় ৪০লাখ টাকা ব্যয়ে ওই সড়কটি পাকা করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ওয়েবসাইট ও ম্যাপে এ তথ্য দেওয়া রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কালিদাস বাজার থেকে ৫০০ মিটার সড়ক পাকা রয়েছে। সেখান থেকে বেলতলী পর্যন্ত পুরো দুই কিলোমিটার সড়কই কাঁচা। অথচ এলজিইডির ওয়েবসাইট ও ম্যাপে ঠকানিয়াপাড়া থেকে বেলতলী পর্যন্ত কাগজে-কলমে ৮১০ মিটার সড়ক পাকা দেখানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ওই অঞ্চলের মানুষ ওই সড়ক দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহায়। ওয়েবসাইটে এ তথ্য থাকায় নতুন করে ওই সড়কটি পাকা করার কোনো প্রকল্প নেওয়া যাচ্ছে না।

কালিদাস ঠকানিয়াপাড়ার গ্রামের বাসিন্দা বহুরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তুহিন আহমেদ ওই সড়কটি পাকা করার তদবির করতে গিয়ে এ ধরনের ভুয়া তথ্য খুঁজে পান।

তুহিন আহমেদ বলেন,‘ওয়েবসাইটের ওই তথ্য থাকায় আমাদের সড়কটি পাকা করা যাচ্ছে না। ফলে ঠকানিয়াপাড়ার মানুষ শুধু ঠকেই যাচ্ছে। আমার মনে হয়,ওই সড়ক পাকা করার সব টাকা ঠিকাদার ও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খেয়ে ফেলেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।’

উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন,‘স্বাধীনতার পর থেকে ওই সড়কে একটি ইটও কখনো পড়েনি। বর্ষায় ওই কাঁচা সড়কে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অথচ কাগজে-কলমে ওই সড়কটি নাকি পাকা। এত বড় দুর্নীতি মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এস এম হাসান ইবনে মিজান ঠকানিয়াপাড়া থেকে বেলতলী পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক কাঁচা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,‘ওয়েবসাইট ও ম্যাপের তথ্য হয় ভুল,না হয় দুর্নীতি হয়েছে। তবে ২০১০-১১ সালের তথ্য আমাদের কার্যালয়ে নেই।’তিনি আরও বলেন,সঠিক তথ্য উদ্ধার করতে হলে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে থাকা ফাইল বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন,ওয়েবসাইটে ভুল থাকলে সংশোধন করা হবে,আর অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।