সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: আইআরজিসির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৩২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি আহওয়াজ শহরের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে আজ (সোমবার) সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘মহররম স্ট্রাইক’ নামের এ হামলায় মোট ছয়টি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পশ্চিম ইরান থেকে ছোঁড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ৫৭০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তে ফোরাত নদীর উপকূলে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে আঘাত হানে। ওই এলাকায় মার্কিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর আহওয়াজ শহরে সামরিক কুচকাওয়াজে কাপুরুষোতি সন্ত্রাসী হামলার জবাবে আজকের হামলা চালানো হলো।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কিয়াম ও জুলফিকার মডেলের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে আইআরজিসি। তরল জ্বালানিচালিত কিয়াম ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন হচ্ছে প্রায় ছয় টন এবং ৭০০ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে ৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত করতে পারে। আর জুলফিকার ক্ষেপণাস্ত্র হচ্ছে গাইডেড ফতেহ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ যা ৭৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শত্রুর অবস্থানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। দুই রকমের ক্ষেপণাস্ত্রই মাটির নিচ থেকে এবং ভাম্যমান লাঞ্চার থেকে ছোঁড়া যায়।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই আইআরজিসি সাতটি সশস্ত্র ড্রোন পাঠিয়ে সন্ত্রাসীদের সদরদপ্তরে বোমা হামলা চালায়। সেখানে বলদর্পী শক্তিগুলোর ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছিল। ইরানে হামলার দায় স্বীকার করেছিল উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ ও আল-আহওয়াজিয়া গোষ্ঠী। দুটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক থাকার কথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুবই পরিচিত বিষয়।

আইআরজিসি বলেছে, আজকের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্ত্রাসীদের অনেক পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক নেতা হতাহত হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়েছে। আইআরজিসি আরো বলেছে, “আমরা দেশবাসীকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, জাতীয় স্বার্থকে সশস্ত্র বাহিনী তাদের জন্য রেড লাইন হিসেবে দেখে এবং আইআরজিসি, দেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখাগুলো শত্রুর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেবে।”