সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকতে পারবে তো বাংলাদেশ?

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: 4:23 PM, November 22, 2019 | আপডেট: 4:23:PM, November 22, 2019

প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে শুরু হয়েছে গেছে ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির ইডেন টেস্ট। ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা এখন তথৈবচ!

ফ্লাডলাইটের কৃত্রিম আলো আর গোলাপি বল চ্যালেঞ্জের ইতিহাসে নাম লিখিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের দলপতি মুমিনুল হক। ব্যাটিংয়ে নেমে সফরকারী বাংলাদেশ প্রথম সেশনেই হারিয়েছে টপঅর্ডারের ৬ উইকেট।

খেলাটা দিবারাত্রির। পুরো দিনের ছয় ঘণ্টার মধ্যে তিন ঘণ্টা হবে সন্ধ্যে নামার আগেই, বাকি তিন ঘণ্টা হবে ফ্লাডলাইটের আলোর নিচে সন্ধ্যে নামার পরে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সন্ধ্যে নামার আগেই চুকিয়ে যাবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পাঠ। কেননা প্রথম সেশনের দুই ঘণ্টাতেই সাজঘরে ফিরে গেছেন প্রথম ছয় ব্যাটসম্যান।

সাপার ব্রেকের আগে ২১.৪ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৩ রান। ভারতীয় বোলারদের বিপক্ষে যা লড়াই করছিলেন লিটন দাস। তিনিও আহত অবসর নিতে বাধ্য হয়েছেন বল মাথায় লাগার কারণে। ফলে বিরতির পর ব্যাট করতে নামবেন দুই বোলার আবু জায়েদ রাহী ও নাইম হাসান।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্তে শুরুটা বেশ সাবধানীই করেছিলেন ইমরুল ও সাদমান। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে ভারতীয় ফিল্ডারদের জোরাল আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন আম্পায়ার। ইমরুল কায়েসের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন কট বিহাইন্ডের। তবে ইমরুল নিশ্চিত ছিলেন বলটা তার ব্যাটে লাগেনি, সঙ্গে সঙ্গে নেন রিভিউ।

রিপ্লেতে দেখা যায় বলটা লেগেছিল তার থাই প্যাডে। যার ফলে সে দফায় বেঁচে যান বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু এক বল পর, সে ওভারেরই পঞ্চম বলে ইশান্ত শর্মার ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিটি বুঝতেই পারেননি তিনি। সোজা আঘাত হানে প্যাডে, লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়ার। এবারও রিভিউ নেন ইমরুল।

কিন্তু রিপ্লেতে দেয়া যায় বলটা সোজা আঘাত হানতো লেগস্টাম্পে। যার ফলে আউটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান ইমরুল। যার ফলে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্টে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে চাপেই পড়ে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

সেই চাপ কয়েকগুণ বেশি ভারী হয় পরের ৬ ওভারের মধ্যেই। ইনিংসের ১১তম ওভারের প্রথম বলে অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট এগিয়ে দিয়ে সেকেন্ড স্লিপে থাকা রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন মুমিনুল হক। এক পর সরাসরি বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মদ মিঠুন। দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।

এ দুইজনের দেখাদেখি পরের ওভারের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলার আগেই সোজা বোল্ড হয়ে যান মুশফিকুর রহীম। টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যাটসম্যানের শূন্য রানের ফেরার মাত্র ৫ম ঘটনা এটি।

তিন এম খালি হাতে ফিরলেও ভালো খেলছিলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। কাউন্টার অ্যাটাকে একাই করছিলেন দলের সব রান। তাই তো দলীয় ৩৮ রানের মাথায় যখন ফিরে যান তিনি, তখন তার নামেই পাশেই লেখা ২৯ রান। বাকি ৯ রানের মধ্যে আবার ৫ রানই আসে অতিরিক্ত খাত থেকে।

এরপর বেশিক্ষণ থাকা হয়নি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। লিটন দাস উইকেটে এসেই জোড়া চার মেরে চাপ সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ তা পারেননি একদমই। যার ফলশ্রুতিতে ২০তম ওভারে ঋদ্ধিমান সাহার দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে মাত্র ৬ রানে আউট হন তিনি।