সবাই দেখলো, কিন্তু প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে গেল না কেউ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৫৭:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

বরগুনায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করেও স্বামী রিফাত শরীফকে (২২) বাঁচাতে পারেননি তার স্ত্রী।

বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে কয়েকজন যুবক। এরপর বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে রিফাতের মৃত্যু হয়।

স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা চলছে সোশাল মিডিয়ায়।

প্রকাশ্য সড়কে শতশত মানুষের উপস্থিতিতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। ক্ষোভ আর নিন্দা প্রকাশ করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একইসঙ্গে যারা এমন হত্যাকাণ্ড দেখেও নির্লিপ্তভাবে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। তারা বলছেন, জনবহুল কলেজ গেটে। শত শত মানুষ ঠায় দাঁড়িয়ে দেখছে। অনেকের হাতে মোবাইল।

ক্যামেরা চালু করে দিব্যি ছবি তুলছে। দাঁড়িয়ে থাকারা প্রায় সবাই যুবক গোছের। খুনিদের থেকেও তরতাজা বটে। অথচ কেউ এলো না বাঁচাতে! বরং হামলা শেষে একজন এগিয়ে এসে খুনিদের পালিয়ে যেতে ইশারা করল।

অনেকেই এ ঘটনাকে ঢাকায় নিহত দর্জি দোকানের কর্মী বিশ্বজিৎ দাস হত্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান লিখেছেন, ‘চো‌খের সাম‌নে কোনোদিন কোনো অন্যায় দে‌খে পা‌লি‌য়ে ‌আসিনি। হয়রা‌নির শিকার হ‌য়েছি। নানা ভোগা‌ন্তি‌তে প‌ড়ে‌ছি। তবু প্রতিবাদ ক‌রে‌ছি। প্রতি‌রোধ ক‌রে‌ছি।

অথচ‌ বরগুনায় আজ শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কেউ একজন ভি‌ডিও ক‌রেছেন।

সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নানা বিপ্লবী মন্তব্য পাওয়া যা‌চ্ছে তা‌তে। কিন্তু একজন মানুষ‌কেও পাওয়া যায়‌নি যি‌নি ঘটনার প্রতিবাদ বা প্রতি‌রোধ ক‌রে ঠেকা‌তে গে‌ছেন।

চো‌খের সাম‌নে অন্যায় দে‌খেও নিরব থাকার এমন প্রবণতা একটা জা‌তি ধ্বংস হওয়ার জন্য য‌থেষ্ট। আমি জা‌নি না যারা আজ ঘটনাস্থ‌লে ছি‌লেন, তারা কীভা‌বে ঘুমা‌বেন! জা‌নি না কোন আফিম খে‌য়ে আমরা ঘুমা‌চ্ছি। জা‌নি না কবে এই ঘুম ভাঙ‌বে। শুভরা‌ত্রি।’

সোহাগ সরকার লিখেছেন, ‘পূর্বের ঘটনাগুলির ধারাবাহিকতায় এটা বলা যায় যে ছবিতে দৃশ্যমান দোষী ব্যক্তিরা আগামীতে মহামান্য উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেখসুর খালাস পাবেন।

আমরা এখন ফেসবুকে দু একটা ইমোশনাল পোস্ট করে দুদিন পর সব ভুলে যাবো। এ জন্য এদেশে ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনার কোনো পোস্ট ফেসবুকে দেখলে হাস্যকর লাগে, লাগে ঘৃণাও।’

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের একজন্য লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ সারা দেশের মানুষের কাছে এখন প্রশ্নবিদ্ধ। যদি বিচার বিভাগ কিছুটা হলেও স্বাধীন থেকে থাকে, তাহলে নিশ্চয় এর বিচার হবে। আর যদি সঠিক আইনের প্রয়োগ হয়ে থাকতো তাহলে এরকম নির্মম ঘটনা আর ঘটতো না।’