‘সবুজ সংকেত’ পেয়ে মাঠে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা হাইকমান্ড থেকে দলীয় মনোনয়নের সবুজ সংকেত পেয়েছেন। সংগঠনটির সাবেক আরও একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা নিয়ে তৃণমূলে কাজ করছেন। যারা দলের হাইকমান্ড থেকে শতভাগ সবুজ সংকেত পেয়েছেন তারা এখন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দলের একাধিক মাঠ জরিপের উপর ভিত্তি করেই ছাত্রলীগের সাবেক এসব নেতাদেরকে দলীয় মনোনয়নের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নীতিনির্ধারক মনে করেন।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সুত্র জানায়, দলের একাধিক জরিপে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যে যারা দলীয় মনোনয়নের সবুজ সংকেত পেয়েছেন তাদের নিজ নিজ এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং সর্বোপরি ক্লিন ইমেজ রয়েছে। মূলত এসব বিবেচনায়ই তাদেরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে মহাজোটভুক্ত নির্বাচন হলে অনেকেই আবার বাদ পরবেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার জন্য দলের হাইকমান্ড ইতোমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এসব সাবেক নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে আছেন। দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে ভোটারদের মনজয় করতে এসব প্রার্থীরা দিনরাত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকে দশম সংসদেও আছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা আবারো মনোনয়ন পেতে পারেন।

দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সূত্র জানায়, দলের হাইকমান্ড থেকে ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক নেতা সবুজ সংকেত পেয়ে মাঠে নেমেছেন।

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামী, তিনি শরীয়তপুর-২ আসনের প্রার্থী। শরীয়তপুর-৩ আসনে রয়েছেন সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী, ফরিদপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, দিনাজপুর-২ আসন থেকে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জয়পুরহাট-২ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয়কর খোকন, পিরোজপুর-২ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইছাক আলী খান পান্না।

এদিকে, গাইবান্ধা-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ দলীয় মনোনয়ন চাইবেন খুলনা-৩ আসন থেকে, নেত্রকোণা জেলার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোণা-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আহমদ হোসেন, নেত্রকোণা-৩ আসনে সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন শফি আহমেদ। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আজিজুল হাসান রানা। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, নরসিংদী-৫ আসনে অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার, ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম মান্নান কচি।

অন্যদিকে, চাঁদপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুজিত রায় নন্দী, ফেনী-২ আসনে সাইফুদ্দিন নাসির। খুলনা-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম কামাল হোসেন। পটুয়াখালী-১ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। ভোলা-৪ আসন থেকে মনোনয়নের প্রত্যাশায় রয়েছেন পরিবেশ ও জলবায়ু উপমন্ত্রী আব্দুলাহ আল জ্যাকব, ঝালকাঠি-১ আসন থেকে মনিরুজ্জামান মনির, টাঙ্গাইল-৪ আসনে অনুপম শাহজাহান জয়, ময়মনসিংহ-১০ আসনে ফাহমি গোল্ডাজ বাবেল এবং বরগুনা-১ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশায় রয়েছেন মশিউর রহমান শিহাব।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সিনিয়র সদস্য জানান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের সাবেক যেসব নেতা দলের মনোনয়ন পেতে পারেন এবং জয় নিশ্চিত হতে পারে তাদের অনেককে আগাম সবুজ সংকেত ইতোমধ্যেই দিয়েছেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির অংশগ্রহণে জোর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ আগে থেকেই নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, নিশ্চয়ই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন যাদেরকে দিয়ে ভালো ফল পাবেন তাদেরকেই ইঙ্গিত বা গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন। যার জয়ের সম্ভাবনা বেশি আছে,অনেক ক্ষেত্রে তাকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংখ্যাটা বলতে পারব না। তবে ভালো পারসেন্টেজ। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ যেসব কেন্দ্রীয় নেতারা দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়ে মাঠে নেমেছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন দলের হাইকমান্ড মাঠ জরিপের ভিত্তিতেই তাদেরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জয় নিশ্চিত আশা করেই নেত্রী তাদেরকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

তারা বলেন, আমরাও ভোটারদের মন জয় করতে বিরামহীনভাবে কাজ করছি। এলাকার জনগণের উন্নয়নে-কল্যাণে সেবা করছি। দলের তৃণমূলের একাধিক সূত্র জানায়, যেসব প্রার্থী দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে প্রচার করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার স্বপক্ষে দলের হাইকমান্ডের কোনো দিকনির্দেশনা পায়নি। ফলে মাঠের অবস্থা কারোর একক নিয়ন্ত্রণে নেই। মনোনয়ন দানের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ততই মাথাচাড়া দিচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে।