সবুর খানের বংশধররাই উস্কানিদাতা, কে এই সবুর খান!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৩:১৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

স্বাধীনতা বিরোধীদের বংশধররা নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আন্দোলনকে অস্থিতিশীল করার পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী সবুর খানের বংশধররা জড়িত ছিলো।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

আরো পড়ুন: সবুর খানের বংশধররাই আন্দোলনে উস্কানিদাতা : প্রধানমন্ত্রী

তার এই বক্তব্যে যে ব্যক্তির নামটি সামনে এসেছে (সবুর খান) তার সম্পর্কে অনেকেই হয়তো তেমন কিছু জানেন না। বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ সবুর খান সম্পর্কে জানেন না।

আবদুস সবুর খান ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ। তবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি আইয়ুব খান সরকারের সময় মন্ত্রী ছিলেন।

১৯০৮ সালের ১০ অক্টোবর খুলনায় জন্মগ্রহণকারী সবুর খানের পিতা নজমুল হোসেন খান ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। তিনি ১৯২৯ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরিক্ষা পাশ করেন। পরবর্তী উচ্চশিক্ষা ১৯৩১ এ ইন্টারমিডিয়েট কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং ১৯৩৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি কলকাতা সিটি কলেজ থেকে লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন

সবুর খানের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৩৭ সালে কৃষক-প্রজা পার্টিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে। ওই বছরই তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং পরে ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি খুলনা থেকে ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। সবুর খান ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং আইয়ুব খানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ছয়দফা কর্মসূচি তথা পূর্ব বাংলার স্বাধিকার ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সরাসরি বিরোধিতা করেন সবুর খান। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে প্রচারাভিযান চালান।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভুমিকা

খান সবুর বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবং জামাতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সাথে মুক্তিবাহিনির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে, ঢাকায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুসলিম লীগ নেতা খান-এ-সবুর বলেন, পাক-ভারত যুদ্ধ বাধলে তা বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেবে। ভারত পাকিস্তানের দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনীকে মোকাবেলা করতে পারবে না বলেই পূর্ব পাকিস্তানে মুক্তিবাহিনীর নামে পঞ্চম বাহিনী গড়ে তুলেছে। মুক্তিবাহিনী কাদের বিরুদ্ধে লড়ছে? দেশতো মুক্ত।

স্বাধীনতা পরবর্তী অধ্যায়

পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার অপরাধে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দালাল আইনে তিনি গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুর সরকার কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ফলে তিনি মুক্তি পান। সবুর খান ১৯৭৬ সালে মুসলিম লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে খুলনার তিনটি আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য এবং মুসলিম লীগ সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চিরকুমার সবুর খান মৃত্যুর পূর্বে একটি কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দান করে যান।