সব মোবাইল ব্যাংকিং-এ আন্তঃলেনদেন

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ২:৩০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

আগামী সপ্তাহ থেকে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডারদের মধ্যে আন্তঃলেনদেন চালু করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বা মাশুল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যাংকের ইন্টারঅপারেবিলিটি বা আন্তঃলেনদেন প্রক্রিয়া এখনও চালু হয়নি, তাদের আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে আন্তঃলেনদেন প্রক্রিয়া চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফলে এখন থেকে বিকাশ, রকেট, এম ক্যাশ ও ইউক্যাশের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে লেনদেন করতে পারবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও এমএফএসের মধ্যেও করা যাবে লেনদেন।

বর্তমানে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানো যায়। কিন্তু এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএসে টাকা পাঠানো যায় না। অর্থাৎ বিকাশ গ্রাহকরা নগদে কিংবা রকেটে, নগদ গ্রাহকরা বিকাশ কিংবা রকেটে, রকেট গ্রাহকরা বিকাশ কিংবা নগদে টাকা পাঠাতে পারতেন না।

এ দুটি সেবা চালু হলে গ্রাহকেরা সহজেই ব্যাংক থেকে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে এবং এমএফএস প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করতে পারবেন।

তবে এই সেবার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো মাশুল নেওয়া যাবে না। টাকা উত্তোলনের খরচ থাকছে আগের মতোই।

আপাতত চারটি ব্যাংক ও চারটি এমএফএস প্রতিষ্ঠান এই সেবায় যুক্ত হয়েছে। অন্যদের আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে আন্তলেনদেন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বিকাশের কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় আরেক ধাপ যুক্ত হল। আমরা অনেক দিন ধরেই প্রস্তুত আছি। এখন আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশে নগদ অর্থের লেনদেন কমাতে সব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তলেনদেন সেবা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্নকারী ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার থেকে লেনদেন শুরু করবে। যারা প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি, তাদের আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে এ সেবা চালু করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে এমএফএস প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে অর্থ এমএফএস প্রতিষ্ঠানের হিসাবে যাবে, সেই প্রতিষ্ঠান অর্থ প্রেরণকারী এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে লেনদেন হওয়া অর্থের দশমিক ৮০ শতাংশ হারে মাশুল দেবে। একইভাবে ব্যাংক হিসাব হতে এমএফএস হিসাবে এবং এমএফএস হিসাব থেকে ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের উভয় ক্ষেত্রেই এমএফএস প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে লেনদেন করা অর্থের দশমিক ৪৫ শতাংশ মাশুল প্রদান করবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে এমএফএসের গ্রাহক ৯ কোটি ২৯ লাখে উঠেছে, আর এজেন্ট ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। আগস্টে লেনদেন হয়েছে ৪১ হাজার কোটি টাকা।

আগস্টে এমএফএসের মাধ্যমে ১০৪ কোটি টাকা প্রবাসী আয় বিতরণ হয়েছে, বেতন-ভাতা পরিশোধ হয়েছে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। কেনাকাটা হয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা। গ্যাস-বিদ্যুতের মতো পরিষেবা বিল পরিশোধ হয়েছে ৯০৮ কোটি টাকা।