সমস্ত বিতর্ক ছাপিয়ে যাত্রা শুরু করলো ‘নোলক’

প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৪৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

কয়েক মাস আগেই বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ‘নোলক’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মহরতে ছবি নিয়ে যতটা না আলোচনা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল শাকিব খানের আকাশচোঁয়া পারিশ্রমিক নিয়ে। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল, ছবিটির জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন শাকিব।

যদিও এ নিয়ে কম তর্ক-বিতর্ক হয়নি। এর মাঝেই শুরু হয় ‘নোলক’ ছবির পরিচালক নিয়ে ঝামেলা। পরিচালক রাশেদ রাহা সিনেমাটি ‘ছিনতাই’য়ের অভিযোগ করে বসেন খোদ প্রযোজকের বিরুদ্ধে!

তিনি জানান, ‘নোলক’ ছবির ৮৫ শতাংশ শুটিং সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে মাঝপথে ছবিটি ‘ছিনতাই’ করা হয়েছে। রাশেদ রাহা তার আবেদনে লেখেন, ‘ছবির বাকি অংশের শুটিং করার জন্য আমি অনেকদিন থেকেই প্রস্তুত। কিন্তু মাসখানেক আগে এ ছবির প্রযোজক সাকিব ইরতেজা চৌধুরী (সনেট)-এর পক্ষ থেকে বাকি অংশের শুটিংয়ের জন্য পরিচালক ইফতেখার চৌধুরীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বলা হয়।

ছবির নির্মাণকৌশল ও গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে কারো সঙ্গে পরামর্শ করতে আগ্রহী ছিলাম না। বিভিন্ন সূত্রে হঠাৎ জানতে পারি, আমাকে ছাড়াই পরিচালক ইফতেখার চৌধুরীকে দিয়ে নোলক ছবির বাকি অংশের কাজ শেষ করার জন্য প্রযোজক এরইমধ্যে একটি দল নিয়ে গত ২১ জুলাই কলকাতায় পৌঁছেছেন। পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে আমার অজ্ঞাতে।’

এমনি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সৃষ্ট জটিলতার মারপ্যাঁচে ছবিটি গেল ঈদে শিডিউল হারায়। ‘নোলক’ ছবির কাহিনিতে উঠে আসবে দুই পরিবারের দীর্ঘ বছরের ঐতিহ্য। ছবিটি প্রযোজনা করছে বি হ্যাপি এন্টারটেইনমেন্ট। ছবিটিতে শাকিব-ববি ছাড়াও আরও দেখা যাবে এক সময়কার জনপ্রিয় তারকাজুটি ওমর সানী-মৌসুমীকে।

অবশেষে নানান বিতর্ক আর অনিশ্চয়তার ঘোর কাটিয়ে ফের শুরু হয়েছে ‘নোলক’-এর শুটিং। বেশ কিছুদিন বিরতির পর এ ছবির দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হয়েছে। আর নির্মাতা হিসেবে রাশেদ রাহার বদলে দায়িত্ব নিয়েছেন ছবিটির প্রযোজক সাকিব ইরতেজা নিজেই। এ সময় চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন সাকিব ইরতেজা।

পাশাপাশি বিষয়টি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত ছবির শুটিং স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। এরপর ছবির নায়ক শাকিবও শুটিংয়ে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু পরে এই নির্দেশ উপেক্ষা করে আবার শুটিং শুরু করেন সাকিব ইরতেজা। গতকাল রোববার পর্যন্ত রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কোক স্টুডিওতে ছবির শুটিং হয়েছে।

তবে, ছবির পরিচালক বদলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না তারা। একজন পরিচালকের কাছ থেকে এভাবে সিনেমা ছিনতাইয়ের ঘটনায় হতবাক ও বিস্মিত হয়েছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক এবং পরিচালকরা।

এ প্রসঙ্গে গুণী পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, ‘একজন পরিচালকের কল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে একটি চলচ্চিত্রে। একজন পরিচালক যদি মাঝপথে কিংবা শেষ দিকে বাদ হয়ে যায়, তাহলে সেটি একজন নির্মাতার কল্পনা শক্তিকে হত্যার সামিল। চলচ্চিত্র যদি একটি সৃষ্টি হয়, আর সেই সৃষ্টি অন্য কেউ নিতে চায়, আমি বলব তা একটি হত্যাকাণ্ড।’

বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘কোনো প্রযোজক এটা করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া অন্য পরিচালককে দিয়ে কাজ করা গুরুতর অপরাধ।’