সম্পত্তির লোভে নিজের গর্ভধারিণী মাকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ | আপডেট: ৭:১৫:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

সম্পত্তির লোভেই নিজের গর্ভধারিণী মা মমতাজ বেগমকে (৫৫) হত্যা করে লাশ গুম করেছিল একমাত্র পুত্র মুন্নাবাবু। পূর্ব পরিকল্পনা মতে গত এক মাস পূর্বে ছেলে মুন্নাবাবু ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবিয়ে রাখে।

ঘটনার এক মাস পর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পোড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটদহ এলাকায়। পরে মুন্না নিজেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে থানায় মা’ অপহরণের একটি জিডি করেন।

এ ঘটনায় ছেলে মুন্নাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মুন্না, তার বন্ধু রাব্বি ও চাচা আব্দুল কাদের। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত।

প্রেস বিফিংয়ে তিনি জানান, মমতাজ বেগমের এক ছেলে ও ৩ মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একমাত্র ছেলে মুন্নাবাবুর সঙ্গে বসবাস করতেন। মা যাতে মেয়েদের সম্পত্তির ভাগ দিতে না পারেন সেই জন্য বন্ধু রাব্বি ও চাচা আব্দুল কাদেরকে নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ছেলে মুন্না।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২০ জানুয়ারি মমতাজকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে এলাকার একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। পরে ২১ জানুয়ারি মুন্নাবাবু নিজেই নাটক সাজিয়ে তার মাকে কে বা কারা অপহরণ করেছে বলে প্রচার চালিয়ে মিরপুর থানায় জিডি করেন।

এছাড়া রাব্বী নামের এক যুবককে অপহরণকারী সাজিয়ে হত্যকান্ডের শিকার মমতাজ বেগমের ছেলে মুন্নাবাবু তার বন্ধু রাব্বীকে অপহরণকারী সাজিয়ে তার দুলাভাইয়ের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপনবাবদ পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মুন্নার বন্ধু রাব্বীকে গ্রেফতার করে।

তার স্বীকারোক্তি মতে খুনের শিকার মমতাজ বেগমের বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে গুম করে রাখা লাশ মঙ্গলবার বিকেলে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে হত্যকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ওই নারীর গর্ভজাত সন্তান মুন্নাবাবু ও তার চাচা আব্দুল কাদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ধৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

নিহত মমতাজ বেগমের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ের পর স্বামীহারা মমতাজ বেগম ছেলে মুন্নাবাবুর সাথেই নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। বসতবাড়ি, ৪/৫টি দোকান ঘরসহ অন্যান্য সম্পত্তির ভাগ যাতে বোনরা না পায় সে আক্রোশবশতঃ মুন্না তার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
২০ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ছেলে মুন্না, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাব্বী ও চাচা আব্দুল কাদের মিলে নিজ বাড়ির ঘরের মধ্যে মমতাজ বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে করে। হত্যার পর প্রথমে লাশ খাটের নীচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে লাশটি চটের বস্তাবন্দী করে বাড়ির পাশের ডোবায় লাশিটি গুম করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় বাদী হয়ে নিহতের ভাই তোরাব আলী মিরপুর থানায় মামলা করেন।

ধৃত আসামিদের বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রেস বিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফরহাদ হোসেন, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।