সরকারি উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করার নজির পৃথিবীতে এ প্রথম পটিয়ায় মুজিব বর্ষের ঘর পাচ্ছে ১১৫ পরিবার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

কাউছার আলম, পটিয়া(চট্রগ্রাম) প্রতিনিধি: ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প ২ এর আওতায় চট্রগ্রামের পটিয়ায় ১১৫টি পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়া হবে। আগামিকাল শনিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর করবেন।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ দেওয়া ছাড়াও এসব পরিবারকে ঋণদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা ও আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে ,আশ্রয় পাবে ,শিক্ষা পাবে ,উন্নত জবিনের অধিকারী হবে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে মুজিব বর্ষে ভূমি ও গৃহহীন দরিদ্র পরিবারকে গৃহ প্রদানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরো ঘোষণা দিয়েছেন মুজিববর্ষে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি পরিবারকে আলাদাভাবে ঘর করে দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন। করোনার মধ্যে ছয়মাসেরও কম সময়ে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

পটিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ইনামুল হাছান জানান, ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে সরকারি খাস জমি। এসব জমির বেশ কিছু অবৈধ দখলদার ছিল সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার করে জনকল্যাণে ব্যবহার হচ্ছে ফলে দু’টি উপকার হয়েছে।

এসব বাড়িতে সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থার করার কাজ দ্রুত শেষ করতে যতাযত নির্দেশনা দয়ো হয়েছে। এসব বাড়ির বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের জন্য আশপাশে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দর্শন হচ্ছে, কাউকে যদি ছাদ দেওয়া হয় তার মাধ্যমে তার দারিদ্র্য বিমোচনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। আত্মসম্মান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
জানা যায়, দেশব্যাপী নির্মিত এসব বাড়ির জন্য উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ ও কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সে কমিটি নিজেরা নির্মাণসামগ্রী কিনে বাড়িগুলো বানাচ্ছেন। সাধারণভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দরপত্রের মাধ্যমে কাজ করা হলেও এটি সরাসরি স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা।

প্রথম পর্যায়ে ৬৬ হাজার পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে আগামী এক মাসে ঘর পাবে প্রায় এক লাখ পরিবার। এটি চলমান থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সবাইকে ঘর দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রকল্প সংশিষ্টরা । ১০ লাখ মানুষ মাথার নিচে ছাদ, সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ পেলে কী পরিমাণ কল্পনাতীত মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে।

পটিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব ঘরের নকশা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে দু’টি শয়ন কক্ষ, একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর ও একটি লম্বা বারান্দা থাকবে। প্রতিটি পরিবারকে দুই শতাংশ জমি স্বামী-স্ত্রী দু’জনের নামেই রেজিস্ট্রি ও নামজারি করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে একটি সনদ দেওয়া হচ্ছে। ঘরগুলো এমন জায়গায় করা হয়েছে যাতে তার জীবনধারণের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা।

আরো জানা যায় , ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। যার মূল লক্ষ্য ছিল গৃহহীনদের মাথায় ছাদ দেওয়া। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিন লাখ ২০ হাজার ৫৮৯টি ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ ঘরগুলো দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৪১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৩৮টি ঘর।