‘সরকারের উপর মহলের নির্দেশে ভিপি হয়েছে নুর’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৩৩:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৯

সরকারের উপর মহলের নির্দেশে নুরুল হক নুরকে ভিপি বানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী। তিনি বলেন, ‘নুরুল হক নুর এই নির্বাচনকে যদি মেনে নেয়। এটা যদি কৌশলের অংশ হয় তবে ঠিক আছে, কিন্তু নীতি নৈতিকতায় এটা ঠিক নেই।’

বুধবার ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের এডিটরস পিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রুশাদ।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই আমরা এই ব্যপারে সন্দিহান ছিলাম। জাতীয় নির্বাচনের পর বড় একটা নির্বাচন, তা আবার ডাকসু দীর্ঘ ২৮ বছর পর। নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করি। দেখলাম এটা কোনো নির্বাচনই হলো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঐতিহ্য তা নষ্ট করে দিলো। সরকারের উপর মহলের নির্দেশে নুরুল হক নুরকে ভিপি বানানো হলো। যদিও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এটাই হতো।’

‘সরকারের নীতি নির্ধারকরা দেখলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি আবার উত্তপ্ত হয়ে যায়, তবে সরকারের জন্য ফল ভালো নাও হতে পারে। সেই বিবেচনায় সরকার ভিপি পোস্টটা সাধারণ ছাত্রদের প্রতিনিধিকে দিয়ে আপাতত বিষয়টা শান্ত করলো,’ বলেন রুশাদ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘নুরুল হক নুর যদি সরকারের এই ফাঁদে পা দেয় তবে সাধারণ ছাত্রদের দাবিকে অসম্মান করা হবে। কারণ ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই এই নির্বাচনকে পুনরায় করার জন্য বলেছে। একটা আন্দোলন দানা বাঁধছে, সেখানে নুরুল হক নুর যদি মেনে নিয়ে আন্দোলন থেকে পিছু হটে তবে তা ঠিক হবে না। এটা সরকারের একটা ফাঁদ।’

‘তবে এটাও ঠিক- কৌশলের অংশ হিসেবে নুর যদি তার ভিপি পদ মেনে নিয়ে, ছাত্র অধিকারের কথা বলতে কাজ করে, তবে ভালো কিছু আশা করা যায়। কিন্তু নৈতিকতার প্রশ্ন থেকেই যাবে। যেহেতু নির্বাচনটা সঠিক না।’

রুশাদ বলেন, ‘এই নির্বাচনের ফলে একটা বিষয় পরিষ্কার হলো বর্তমান সরকারের পক্ষে কেনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। নুরুল হক নুরের বিজয়কে আমি প্রশাসনের একটা খেলার অংশ বলবো, কারণ আমরা যখন কুয়েত মৈত্রী হলে পর্যবেক্ষণ করতে গেলাম, সেখানে শিক্ষকরা বলেছে এই চুরির দায় আমরা নিতে পারবো না। সেখানের মেয়েরা আমাদের দেখে কেঁদে ফেললো। তারা প্রশাসনের এই নিলজ্জ হস্তক্ষেপের কথা বললো। আমাদের কাছে সিল মারা ব্যলট দেখালো।’

‘এছাড়া আমরা সূর্যসেন হল, এফ রহমান হল, দেখলাম লাইন জ্যাম করা বুথের মধ্যে বেশি সময় লাগানো, একটি ছেলেকে দেখলাম ২২ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগালো,’ যোগ করেন এই সহকারী অধ্যাপক।