সরকারের বিরোধিতা মানেই দেশদ্রোহিতা নয় : ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১ | আপডেট: ৮:১৩:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

সরকারের বিরোধিতা করলেই তা দেশদ্রোহিতা নয় বলে মত দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সরকার-বিরোধী মত পোষণ করা বা সরকারের বিরোধিতা করলেই তা দেশদ্রোহিতা, এমনটা বলা যায় না।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) নেতা ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে একটি আবেদনের শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন সুপ্রিম কোর্ট। এসময় ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও খারিজ করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিলোপ করে সংবিধানের বিশেষ ৩৭০ ধারা। সেই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে সরব হয়েছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ফারুক আবুদল্লা। তার সেই সরব হওয়ার মধ্যে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র ইঙ্গিত পেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে বুধবার এমন মন্তব্য করে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ অগাস্ট ২০১৯ থেকে গৃহবন্দি ছিলেন ফারুক আবদুল্লা সহ জম্মু-কাশ্মীরের অন্য রাজনৈতিক কর্মীরা। অপর একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকেও রাখা হয়েছিল গৃহবন্দি করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি দেওয়া হয় ফারুক আবদুল্লাকে।
মেহবুবাও মুক্তি পান।

এর আগে ২০১৬ সালেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল- সরকারি নীতি অর্থাৎ সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। এমনটা হলে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও আর নেওয়া যায় না।

সে সময় রাষ্ট্রদ্রোহিতা নিয়ে ভারত জুড়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রদ্রোহিতা আইনে একের পর এক মামলা করা হচ্ছিল। বিভিন্ন মহল থেকে ওই আইন বাতিলের দাবিও উঠতে শুরু করে। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এ নিয়ে হস্থক্ষেপ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত এমন কথা বলেছিলেন।

সূত্র: আনন্দবাজার।