সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে

বাম দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ২:০৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৮

টিবিটি রাজনীতি: বাম দলের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, সরকার দমন-পীড়ন, মামলা হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের পথ বেচে নিয়েছে। সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতন করে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে ও জটিল করে তুলেছে। সরকার বলছে আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়েছে-তারা হলো ছাত্রলীগ। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। শুক্রবার বিভিন্ন বাম দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের নিরাপদ, সতর্ক ও কোটাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকে সরকার থেকে শুরু করে সর্বমহল ন্যায্য আন্দোলন বলে বার বার ঘোষণা দিয়েছিল। তরুণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞ শাসক শ্রেণীর চোখ খুলে দিয়েছিল বলেও প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিল। কিন্তু তাদের ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার ভীতি ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার ইচ্ছা বা উপযুক্ত দক্ষতা না থাকায় সরকার ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে। সরকার দমন-পীড়ন, মামলা হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের পথ বেচে নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর মামলা হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতন করে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে ও জটিল করে তুলেছে। এটা দেশবাসীর জন্য কাম্য নয় এবং কারো কাছে গ্রহণ যোগ্য নয়। ফলে অবিলম্বে আমরা আটককৃতদের মুক্তি দিয়ে ও আক্রমনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে।
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন, মামলা হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতন করা এটা অন্যায় কাজ। তারা বলেছে তাদের গ্রেফতার করে জেলে রেখেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদের পুরস্কৃত না করে জেলে রাখা হয়েছে। এই আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। বিগত ৪৭ বছরে সরকার নিরাপদ সড়কের ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সরকার বলছে আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়েছে-তারা হলো ছাত্রলীগ। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। এটা রাষ্ট্র ও সরকার অন্যায় করেছে। নতুন করে নির্যাতন বন্ধ করে তা থেকে বিরত থাকা দরকার। নিরাপদ সড়কের ব্যাপারে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

বাংলাদেশের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, কিশোর-কিশোরী ছেলে- মেয়েরা নিরাপদ সড়কের জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অনেক লোক মারা যাচ্ছে। তার জন্য কিশোর-কিশোরীরা আন্দোলন করেছে। তা রোধ না করে সরকারের লোকজন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের ক্ষেত্রেও সরকার বিরূপ আচরণ করেছে। একইভাবে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গেও একই আচরণ করেছে। নিরাপদ সড়ক না হওয়ার জন্য সরকার দায়ী। এসব দাবি মেনে না নিলে এক সময় গণঅভ্যত্থান সৃষ্টি হবে। আমরা কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবি সরকার না মানায় তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি অবিলম্বে সরকারকে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আহবান জানান।