সরকার যত অপচেষ্টা করুক বিচার বিভাগ এখনও ন্যায়ের পক্ষে: ইশরাক

প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ৫:১৪:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০
আদালতে ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

এখনও বিচার বিভাগ এবং প্রশাসন ন্যায়পরায়ণ মানুষের পক্ষে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যতই অপচেষ্টা করুক বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে এটিকে দলীয়করণ বা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যত চেষ্টায় থাক বিচারবিভাগ এখনও ন্যায়ের পক্ষে রয়েছে।’

সোমবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালত ইশরাক বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার (নন-সাবমিশন) মামলায় অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেন। রায় ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজকে আদালত একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা বিচার বিভাগে আশার আলো দেখতে পারছি। ২০০৮ সালে আমি ছাত্র থাকাকালীন তখনকার অবৈধ সরকার এই মামলা করে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৩ বছর ধরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ, বিচারবিভাগকে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আমরা বলে আসছি। সেই জায়গায় আমি বলবো আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে, দেশবাসীর বিজয় হয়েছে। এখন আমরা দলমত নির্বিশেষে আশার আলো দেখতে পারছি।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার যতই অপচেষ্টা করে বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবের চেষ্টা করুক না কেন এখনো বিচারবিভাগ ও প্রশাসনে ন্যায়পরায়ণ মানুষ রয়েছে। আজকে বিচারক সৎ সাহস নিয়েই এই রায় দিয়েছেন।’

এদিন সকাল ১০ টার দিকে ইশরাক হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। এরপর দুপুর ২ টা ১০ মিনিটে আসামি ইশরাকের উপস্থিতিতে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায় পড়া শেষে বিচারক দুপুর ২ টা ৩৫ মিনিট এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আদালত আসামি ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর গত ১৯ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় বিভিন্ন সময় আদালতে মোট ৮ সাক্ষীর মধ্যে ৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলে নোটিশ দেয় দুদক। নির্দিষ্ট সময়ে এই বিবরণী জমা না দেওয়ায় ২০১০ সালের আগস্টে তাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের ওই সময়ের সহকারী পরিচালক মো. শামছুল আলম।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাদেক হোসেন খোকার স্থাবর-অস্থাবর অনেক সম্পত্তি রয়েছে তার দুই ছেলে-মেয়ের নামে। তারা এসব সম্পদের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের সম্পত্তির হিসাব দাখিলের নোটিশ দেওয়া হলেও তা দাখিল করেননি তারা। এটি দুদক আইনের ২৬(২) (ক) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় মামলা এ দায়ের করা হয়।