সর্ববৃহৎ ‘গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’ উদ্বোধন করলো হুয়াওয়ে

শিল্পখাত-জুড়ে সক্ষমতা নির্মাণ, জ্ঞানের আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রচেষ্টা জোরদার-করণের পক্ষে কাজ করে হুয়াওয়ে

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১ | আপডেট: ৭:৫৮:অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

চীনের ডংগুয়ানে নিজেদের সর্ববৃহৎ গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি প্রটেকশন ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার উদ্বোধন করেছে হুয়াওয়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন জিএসএমএ, এসইউএসই, ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইন্সটিটিউশনের প্রতিনিধিগণ এবং সংযুক্ত আরব-আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার নিয়ন্ত্রকরা।

নতুন সেন্টার চালু করার পাশাপাশি হুয়াওয়ে এর প্রোডাক্ট সিকিউরিটি বেজলাইন প্রকাশ করেছে। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো এর প্রডাক্ট সিকিউরিটি বেজলাইন ফ্রেমওয়ার্ক ও ব্যবস্থাপনা অনুশীলন পুরো খাতের জন্য উন্মুক্ত করে হুয়াওয়ে। এ পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানটির খাতজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে ক্রেতা, সাপ্লায়ার, মানদণ্ড সংশ্লিষ্ট নির্ধারক সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে কাজের প্রচেষ্টা গ্রহণের বিস্তৃত পদক্ষেপের অংশ।

হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান কেন হু বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘একীভূত শিল্পখাত হিসেবে আমাদের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন এবং শাসন ব্যবস্থা, মানদণ্ড, প্রযুক্তি ও যাচাইকরণে নিজেদের মধ্যে সর্বোত্তম অনুশীলনীগুলো আদান-প্রদান করতে হবে। সাধারণ মানুষ এবং নিয়ন্ত্রকরা যেনো প্রতিদিনকার ব্যবহৃত পণ্য ও সেবার নিরাপত্তার ব্যাপারে আস্থা রাখতে পারেন, আমাদের সে কারণ তৈরি করতে হবে। একসাথেই আমরা ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বিশ্বে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সঠিক ভারসাম্য বজায়ে কাজ করতে পারি।’

বিগত বছরগুলোতে ইন্ডাস্ট্রি ডিজিটালাইজেশন এবং ফাইভজি ও এআই এর মতো নতুন প্রযুক্তি সাইবার-ক্ষেত্রকে আগের চেয়ে বেশি জটিল করে তুলেছে। এক্ষেত্রে, আরও ভূমিকা রেখেছে কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষের অনলাইনে অনেক বেশি সময় কাটানো। এসব প্রবণতাই সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

এসব বিষয় চিহ্নিতে এবং সাইবার গভর্নেন্স নিয়ে খাত-সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দক্ষতার আদান-প্রদানে, পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে একসাথে কাজ করার জন্য হুয়াওয়ে ডংগুয়ানে এর নতুন গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি প্রটেকশন ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার চালু করেছে। এ সেন্টারের মাধ্যমে নানা সমাধান প্রদর্শন করা হবে ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান করা হবে, যোগাযোগ ও যৌথ উদ্ভাবন বৃদ্ধিতে কাজ করা হবে এবং সিকিউরিটি টেস্টিং ও ভেরিফিকেশনে সহায়তা প্রদান করা হবে। সেন্টারটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ টেস্টিং প্রতিষ্ঠান, মানদণ্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং হুয়াওয়ের ক্রেতা, অংশীদার ও সাপ্লায়ারদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

টেলিকম খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতি জোরদারকরণে জিএসএমএ ও থ্রিজিপিপি খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে এনইএসএএস সিকিউরিটি অ্যাসুরেন্স স্পেসিফিকেশন ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্টিফিকেশন বিষয়ে উৎসাহিত করতে কাজ করছে। এ বেজলাইনগুলো সংশ্লিষ্ট খাতে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং সুরক্ষিত নেটওয়ার্কের উন্নয়নে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জিএসএমএ’র মহাপরিচালক ম্যাটস গ্র্যানরিড হুয়াওয়ের নতুন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘ফাইভজি যুগে বিদ্যমান ও নতুন সেবা প্রদান বিশেষভাবে নির্ভর করবে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানগুলোর কানেক্টিভিটি সেবা এবং মূলত নির্ভর করবে এ প্রযুক্তি সুরক্ষা এবং এর ওপরে আস্থার ওপরে।‘ তিনি বলেন, ‘অংশীজনদের সহায়তা করতে জিএসএমএ ফাইভজি সিকিউরিটি নলেজ বেসের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে তারা নেটওয়ার্কের ঝুঁকি বুঝতে পারেন এবং এ ঝুঁকি প্রশমনে কাজ করতে পারেন। অন্যদিকে, শিল্পখাতজুড়ে নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের বিকাশ ও নিরাপত্তার উন্নয়নে শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি অ্যাসুরেন্স ফ্রেমওয়ার্ক ‘এনইএসএএস’ করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে এর প্রডাক্ট সাইবার সিকিউরিটি বেজলাইন প্রকাশ করে। পণ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় এক দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা, বিস্তৃত পরিসরের বাহ্যিক বিধিমালা অন্তর্ভুক্তিকরণ, কারিগরি মানদণ্ড এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় বিষয় সমন্বিত করে প্রডাক্ট সাইবার সিকিউরিটি বেজলাইন তৈরি করা হয়েছে। এ বেজলাইন হুয়াওয়ের অন্যান্য গভর্নেন্স মেকানিজমের সাথে মিলে প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান, সুরক্ষা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিতে সহায়তা করবে। বিগত বছরগুলোতে হুয়াওয়ে ১৫শ’র বেশি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে যা ১শ’ ৭০টি দেশে ৩শ’ কোটির বেশি মানুষকে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে কোনও নেটওয়ার্কে বড় ধরনের কোনও সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা উদ্ভূত হয়নি।

হুয়াওয়ের গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি প্রটেকশন অফিসের পরিচালক শন ইয়াং বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা শুধুমাত্র আমাদের মূল সাপ্লায়ারই নয়, বরং সম্পূর্ণ খাতের সামনেই আমাদের সিকিউরিটি বেজলাইন ফ্রেমওয়ার্ক তুলে ধরেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রেতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মানদণ্ড সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি সেবা দাতা এবং টেস্টিং প্রতিষ্ঠান সহ সকল অংশীজনদের আমন্ত্রণ জানাই আমাদের সাথে কাজ যুক্ত হয়ে একসাথে সাইবার সিকিউরিটি বেজলাইন নিয়ে আলোচনা করার ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। একসাথে আমরা ধারাবাহিকভাবে এ শিল্পখাতে পণ্যের নিরাপত্তার উন্নয়নে কাজ করতে পারি।’

বর্তমানে মানদণ্ডের ভিত্তির ক্ষেত্রে এ খাতে এখনও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে; বিশেষত, গভর্নেন্স, কারিগরি সক্ষমতা, সার্টিফিকেশন ও যৌথ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে।

‘সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রে সবার দায়িত্ব রয়েছে,’ উদ্বোধনী বক্তব্যের শেষে বলেন কেন হু। ‘সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ শনাক্তে সমন্বিত পদ্ধতি নিয়ে সরকার, মানদণ্ড সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং প্রযুক্তি সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একসাথে কাজ করতে হবে। এটা অবশ্যই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা হতে হবে। আমাদের সবার সমন্বিত লক্ষ্য থাকতে হবে, দায়িত্বের ব্যাপারে একসাথে হতে হবে এবং বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে একসাথে কাজ করতে হবে, যা বর্তমান এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।’