সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে মাকে নিয়ে ছোট্ট ফ্ল্যাটে থাকেন নানা পাটেকর

টিবিটি টিবিটি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: 12:26 AM, November 19, 2019 | আপডেট: 12:26:AM, November 19, 2019

বলিউডের নাম আসলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে তারকাদের জাঁকজমকেপূর্ণ ও বিলাসবহুল জীবন। আদতে ঘটেও তাই। কিন্তু এসব চিরায়ত নিয়মের ব্যতিক্রম এক অভিনেতা হলে নানা পাটেকর।

যেমন তার অভিনয়, তেমনি জনপ্রিয় এই তিনি। দানশীল ও অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত নানা পাটেকরকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদ সংস্থা আনন্দবাজার।

অত্যন্ত মধ্যবিত্ত জীবনযাপন, বিলাসিতার একেবারেই ধার ধারেন না। এমনকি, জনপ্রিয় এই অভিনেতা যা উপার্জন করেন তার সিংহ ভাগটাই বিলিয়ে দেন গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে। মাকে নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ জীবন কাটান নানা পাটেকর।

বলিউডে অভিনয়ের জন্য তিনি ঠিক যতটা জনপ্রিয়, তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি লোকপ্রিয় তার এই উদার মনোভাবের জন্য। তারকারা উপার্জন তো অনেক বেশি করেন, কিন্তু তাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েক জনই এই ঔদার্য দেখাতে পারেন। নানা তাদেরই অন্যতম।

১৯৫১ সালে আরব সাগরের তীরে মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে জন্ম নানা পাটেকরের। বাবা গজানন পাটেকর এক জন কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। মা নির্মলা পাটেকর সংসার সামলাতেন। নানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর।

ছোট থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কিন্তু সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় কখনো তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য বাবা-মাকে জোর দেননি। বরং মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি রোজগার করতে শুরু করেন।

ওই বয়সেই তিনি ফিল্মের পোস্টার আঁকার কাজ শুরু করেন। পোস্টার পিছু ৩৫ টাকা পেতেন। একটা সময় রাস্তার জেব্রা ক্রসিং রং করেও উপার্জন করেছেন তিনি।

জানা গেছে, ছোটবেলায় নানা পাটেকর ভীষণ দুষ্টু ছিলেন। ছেলেকে সামলাতে না পেরে বিরক্ত হয়ে একবার তার মা তাকে মাসির বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক দিন পরেই ব্যাগ গুছিয়ে নানাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন মাসি। মাসির অভিযোগ ছিল, ভাইবোনদের খারাপ বুদ্ধি দিতেন নানা।

কলেজে পড়ার সময় নাটকের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। তারপর বেশ কিছু বিজ্ঞাপন এজেন্সির সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। কলেজের সহপাঠী নীলকান্তি পাটেকরকে বিয়ে করেন নানা। তখন নানার বয়স ২৭।

নানার ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবন— দুটোই অনেক চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। বিয়ের এক বছর পর তার বাবার মৃত্যু হয়। নানা নিজের প্রথম সন্তানকেও ওই সময় হারিয়েছেন।

দ্বিতীয় সন্তানের নাম মলহর পটকর। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে স্ত্রীর থেকে আলাদা থাকেন নানা। মুম্বাইয়ে একটা ৭৫০ বর্গ ফুটের এক কামরার ফ্ল্যাটে তিনি মায়ের সঙ্গে থাকেন। অত্যন্ত সাদামাটা জীবন কাটান। তার এই ছোট ফ্ল্যাটে প্রয়োজনীয় আসবাব ছাড়া আর প্রায় কিছুই নেই।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নানার। ওই ছবিতে তার অভিনয় এত প্রশংসিত হয়েছিল যে, এর পর প্রচুর ছবির অফার আসতে শুরু করে। ‘প্রহার’ ছবির জন্য তিনি তিন বছরের জন্য সেনা ট্রেনিং নিয়েছিলেন। এর পর তাকে ভারতীয় সেনার ক্যাপ্টেন মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। কথিত আছে, কার্গিল যুদ্ধেও নাকি তাকে কিছু দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

১৯৭৮ সাল থেকে তিনি যা উপার্জন করেছেন তার ৯০ শতাংশই গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। অনেক সময় এমনও হয়েছে, ফিল্মে কাজ করার পুরো পারিশ্রমিকটাই কোনো এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে দিয়েছেন। ২০১৫ সালে নানা নিজের সংস্থা ‘নাম ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। মহারাষ্ট্রের খরা কবলিত এলাকায় কাজ করে তার বেসরকারি সংস্থা। ২০১৫ সালে বিদর্ভ, লাতুর অঞ্চলের ১৭৫টি চাষি পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে চেক দিয়েছিলেন তিনি।

বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য মহারাষ্ট্রে ৫০০টি ঘর তৈরি করার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।

নানা পাটেকর কেন গরিবদের জন্য এত কাজ করছেন? না, রাজনীতিতে আসার কোনো ইচ্ছাই তার নেই। শিবসেনার অফার তিনি আগেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এগুলো তার মনকে শান্ত রাখে। মানুষের উপকারের মধ্যেই আত্মতৃপ্তি ঘটে তার।