কৌশলে সর্বাধুনিক পরমাণু প্রযুক্তি আমদানি করছে পাকিস্তান!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১ | আপডেট: ৯:১১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২১

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যবহারের অজুহাতে সর্বাধুনিক পরমাণু প্রযুক্তি পাওয়ার জন্য পাকিস্তান সবধরনের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার চর্চা করে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ করে আসছে বেশ কয়েকটি দেশ। এবার এ তালিকায় নাম লেখালো নরওয়ে।

নরওয়ের নিরাপত্তা সংস্থার তৈরি হুমকি পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের ডুয়েল ইউজ টেকনোলজির (দ্বৈত ব্যবহার সক্ষম প্রযুক্তি, যা সামরিক ও শান্তিপূর্ণ দুটি উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যায়) ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

মর্ডান ডিপলোমেসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তরে ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে- এ বিষয়টি নিয়ে নরওয়ের আগে অনেক দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্বের অনেক দেশই পাকিস্তানের সৃষ্ট পারমানবিক হুমকির বিষয়টি নিয়ে অবগত রয়েছে। ‘অ্যানুয়াল রিপোর্ট অব সিকিউরিটি ইনফরমেশন সার্ভিস ফর ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে চেক রিপাবলিক পারমানবিক কর্মসূচির জন্য বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সামগ্রী এবং প্রযুক্তি পেতে পাকিস্তানের কর্মকান্ড নিয়ে সবাইকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তবে পাকিস্তান যে গোপনে পারমানবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে তার পক্ষে এই প্রতিবেদনগুলোর চেয়েও অনেক ভালো প্রমাণ আছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিভাগ পাকিস্তানভিত্তিক ফ্রন্ট কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা পণ্য সেখানে রপ্তানির উদ্দেশ্যে একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য পাঁচ ব্যাক্তিকে অভিযুক্ত করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তানের ২৯টি ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি ৩৮টি পৃথক রপ্তানির চালান গ্রহন করেছে। এসব পণ্য পৌঁছানোর মূল গন্তব্যস্থান গোপন রাখতে এই নেটওয়ার্কটি ফ্রন্ট কোম্পানিগুলোকে অনুমিত ক্রেতা এবং পণ্যের সর্বশেষ ব্যবহারকারী হিসেবে দেখিয়েছে।

অবশ্য মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এসব পণ্য মূলত পাকিস্তানের অ্যাডভান্সড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এইআরও) এবং পাকিস্তান অটোমিক এনার্জি কমিশনের (পিএইসি) কাছে রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে। এইআরও এবং পিএইসি এই উভয় কোম্পানিই মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের এনটিটি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত; এই তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা অথবা পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার তাদের রপ্তানি লাইসেন্স চেয়ে থাকে।

একইভাবে জার্মান কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালে জানায়, ‘চিরশত্রু ভারতের বিরুদ্ধে মারাত্মক প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে’ পাকিস্তান তাদের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) তৈরির প্রযুক্তি চেয়েছে। সংস্থাটি আরো জানায়, পাকিস্তান তথ্য ও পারমানবিক অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম চুরির প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো।

তবে দেশটির সরকার বারবার বোঝাতে চেয়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা দেশকে সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে উন্নত করতে চায়।

এদিকে নরওয়ের প্রতিবেদনটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অন্যান্য দেশগুলো পাক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে প্রযুুক্তি পৌঁছুতে দিতে চায় না; এরফলে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও ইউনিভার্সিটিগুলোয় ভর্তি হতে পারবে না।

সূত্র: ২৪ লাইভ নিউজ।