সাংসদের দেওয়া সাইকেলে স্বপ্ন ঘরিয়েছে তুলি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২১ | আপডেট: ৫:৪৬:অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২১

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: তুলি (অথৈয়), মারিয়া ও সুরমা তিন বান্ধবী। তারা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামে বাস । তাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে তারা।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একই সাথে জোতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ -৫ নিয়ে পাশ করে মাধ্যমিকে ভর্তি হয় তিন বান্ধবী। মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে।

এছাড়াও প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকতে স্কুলের পাশাপাশি প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়ে তিন বান্ধবী। প্রাইভেট সেন্টার ওই স্কুল এলাকায়। সকাল বিকাল দুবেলা প্রাইভেট পড়তে যায় তারা।

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও দৈন্যতায় পায়ে হেটে যাওয়া আসা করে তারা। তারা প্রতিদিন প্রায় ছয় কিলোমিটার পায়ে হাটে। এতে একদিকে যেমন অধিক সময়ের ব্যাপার, অন্যদিকে অনেক কষ্টসাধ্যও।

জানা গেছে, প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তির পরই সাইকেলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিন বান্ধবী। বাড়িতে সাইকেল কেনার দাবি জানান তিনজনই।

কিন্তু দিনমজুর ও খেটে খাওয়া তিন বাবার পক্ষে সাইকেল কেনা সম্ভব হয়নি। পরিবারের অর্থনৈতিক অক্ষমতা তাদের কচিকাঁচা মন ভেঙে দেয়। তবে এনিয়ে তারা শঙ্কিত বা দুর্বল হয়নি। এভাবেই চলছিল তিন বান্ধবী স্কুল – প্রাইভেটে যাওয়া আসা।

গল্প এখানেই শেষ নয়। এরপর ২০২০ সালের ১০ জুলায় যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি -৩ এর অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের সাইকেল উপহার দেওয়া হয়।

সেদিন ইউনিয়নের পাঁচ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থীকে সাইকেল দেওয়া হয়। তন্মধ্যে দুই বান্ধবী মারিয়া ও সুরমা সাইকেল পাই। কিন্তু কপাল গুনে সাইকেল বঞ্চিত ছিল তুলি অনেকটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

এরপর দুই বান্ধবী সাইকেলে আর তুলি চিরাচরিতভাবেই চলাচল করতে থাকে। মহামারি করোনায় স্কুল বন্ধ থাকলেও চলমান রয়েছে প্রাইভেট সেন্টার। যাতায়াত ব্যবস্থা ভিন্ন হওয়ায় অনেকটা খসে পড়েছে তাদের বন্ধুত্ব। এভাবেও তুলি’র কেটে গেল নয় মাস। সাইকেলের আশায় ভাঙা মন ও পায়ে হাটায় শঙ্কায় সময় কাটছিল তুলি’র।

তুলি’র এমন ভাঙা মন – মানসিকতার খবর লোকমুখে পৌছে যায় কুষ্টিয়া -০৪ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জে কানে। সাংসদ তুলির খোঁজখবর নেন। পরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়ে) অর্থায়নে গত ২৭ এপ্রিল তুলিকে একটি সাইকেল উপহার দেয় সাংসদ। প্রাপ্ত সাইকেলের চাকা স্বপ্ন ঘুরিয়েছে তুলি’র। আশার আলো জ্বলেছে পরিবারের চোখে মুখে।

এবিষয়ে তুলির মা স্বপ্না খাতুন বলেন, তিন বান্ধবী ছোট থেকে এক সাথে পড়াশোনা করছে। একসাথে স্কুলে যাওয়া আসে করে। একই সাথে এক স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

কিন্তু বর্তমান স্কুল বাগি থেকে অনেকে দুরে। সময় ও কষ্ট বেশি লাগে পায়ে হেটে যেতে। তিনি বলেন, নয় মাস আগে ওর দুই বান্ধবী সাইকেল পেয়েছে। কিন্তু তুলি না পাওয়ায় খুব ভেঙে পড়েছিল। হঠাৎ এমপি সাহেব ডেকে সাইকেল দেওয়ায় আমরা খুব খুশি

স্কুল ছাত্রী তুলি বলেন, আমি খুব খুশি। সাইকেল পেয়ে খুব ভাল লাগছে। এখন তিন বান্ধবী আবার এক সাথে স্কুলে যেতে পারব।

এবিষয়ে সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের চাচাতো ভাই জনি বলেন, সাইকেল না থাকায় তুলির স্কুলে যেতে কষ্ট হয়। খুব মন খারাপ করে থাকে। ওর স্বপ্নের পথে বাঁধা একটি স্বপ্ন। এমন খবর এমপি সাহেবের কানে আসে এবং তুলি ও ওর বাবাকে ডেকে একটি সাইকেল দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, সাংসদ জর্জের এলাকায় অর্থাভাবে কারো পড়াশোনা বন্ধ থাকবেনা। অর্থ কারো অন্তরায় হবেনা।