সাইবার সন্ত্রাসী সেই আয়াপুত্র মোজাম্মেল ভুইয়া ফের গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৯:২৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০
প্রতীকী ছবি

সেই সাইবার সন্ত্রাসী মোজাম্মেল আলম ভুঁইয়াকে ফের গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের কামার পট্রি হতে থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

মোজাম্মেল উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের বাদাঘাটের আব্দুর রব ভুঁইয়া ওরফে কলকী (গাঁজা সেবনকারী) রব মিয়া ছেলে।

মা(আয়া) আলেনা বেগমের চাকুরির সুবাধে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র চতৃর্থ শ্রেণির কোয়ার্টারের বসবাস করত মোজাম্মেল। বৃহস্পতিবার সন্ধায় তাহিরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ তরফদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, থানার এসআই মনিতোষ পালের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকটি টিম অভিযানে নেমে কৌশলে তাকে গ্রেফতার করেন।

বৃহস্পতিবার ২৮-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ’র বিজিবি নায়েব রাসেল বাদী হয়ে সাইবার সন্ত্রাসী মোজাম্মেল সহ তার অজ্ঞাত নামা কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপক্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।,

অভিযোগ রয়েছে প্রশাসন, পুলিশ , বিজিবি, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সহ আইনশৃংখলা বাহিনী, লোকজন, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ,সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণির পেশার লোকজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে-ই-মেইলে গুজব , কুৎসা রটনা করে আসছিলো এই সাইবার সন্ত্রাসী মোজাম্মেল।

সীমান্তের মাদক অস্ত্র কয়লা পাথর চোরাকারবারী, গাড়ি চোর চক্র, জাদুকাটা নদীর বালু পাথর চোর চক্র সহ নানা অপরাধীর সাথে গোপন সখ্যতা গড়ে তোলে নগদ ও বিকাশে অর্থ আয়ের মাধ্যমে মোজাম্মেল তাদের ফরমায়েশি জায়েজ করতে গিয়ে প্রশাসন, পুলিশ , বিজিবি, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সহ আইনশৃংখলা বাহিনী, লোকজন, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ,সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণির পেশার লোকজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে-ই-মেইলে গুজব , কুৎসা রটনা, বিভিন্ন অনলাইনে ভুয়া,মিথ্যা আজগুবি সংবাদ প্রকাশের পর নিজেই ২৫ হতে ৩০টি ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করে আসছিলো এই সাইবার সন্ত্রাসী মোজাম্মেল।,

নিজেকে সাংবাদিক,অভিনেতা প্রযোজক, চলচিত্র সমিতির সহকারী পরিচালক পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে প্রভাবিত করে ঢাকাই ছবিতে নায়ক নায়িকা অভিনয়ে সুযোগ দেয়া, মিউজিক ভিডিও’র হিরো হিরোইন হিসাবে মডেল করার বলে প্রতারনা করে নানা প্রতারনার ফাঁদ তৈরী করে অর্থ আদায় করে আসছিলো বিগত কয়েক বছর ধরে এ মোজাম্মেল।,

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ মার্চ রাতে উপজেলা পরিষদ নির্বচনের দিন তিনেক পুর্বে সংবাদ প্রকাওে জের ধওে ও পেশাগত দায়িত্বপালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরীর ষড়যন্ত্র সফল করতে গিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি (বর্তমানে ষ্টাফ রিপোর্টার) সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়–য়া ১১ বছরের মেধাবী স্কুলছাত্র মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের শিশু সন্তানকে গ্রামের বাড়ি তাহিরপুরের বাদাঘাটের পার্শ্ববর্তী কামড়াবন্দ গ্রামে এক শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়া অবস্থায় অন্যান্য সহপাঠিদের সাথে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে বের হলে সড়কের উপর পুর্ব থেকে উৎপেতে থাকা মোজাম্মেল এসিড নিক্ষেপ করে ওই স্কুলছাত্রের মুখ মন্ডল ঝলসে দিয়ে আত্বগোপনে চলে যায়।

চাঞ্চলল্যকর এসিড অপরাধ দমন আইন মামলার চার্জশীট ভুক্ত সেই পলাতক এসিড সন্ত্রাসী মোজাম্মেল আলম ভুঁইয়া পাঁচ বছর পর অবশেষে ২০১৯ সালের জুন মাসে গোপন সংবাদের ভিওিতে র‌্যাব-৯, সিলেটের একটি চৌকস টিম এএসপি ওবাইন এর নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকার রমনা থানার মগবাজার এলাকার একটি হোটেল হতে বহুল আলোচিত সাইবার সন্ত্রাসী মোজাম্মেলকে গ্রেফতার হয়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে এসিড অপরাধ দমন আইনে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যা তাহিরপুর থানায় মামলা নং-০৬/ জিআর ৬০,তারিখ ০৫/০৪/২০১৮, ধারা এসিড অপরাধ দমন আইন /২০০২ এর ৫(ক)।

অপরদিকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনার রাত থেকেই মোজাম্মেল দ্বীর্ঘ পাঁচ বছর ২ মাস ২০ দিন যাবত দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেকে কখনো ফেসবুক/অনলাইন/টিভি সাংবাদিক এমডি মোজাম্মেল, জার্নালিস্ট মোজাম্মেল আলম ভুঁইয়া নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে আবার ইউটিউবে চ্যানেল খুলে কখনো নিজেকে মডেল মিশেল কখনো নবাগত চিত্র নায়ক মিশেল নামে ছদ্দনাম ধারণ করে পালিয়ে থেকেও নানা লোকজনকে প্রভাবিত করে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার জালবিস্তার করে লাখ লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।’

এদিকে চাঞ্জলকর এসিড মামলাটি আপোস না করায় পালিয়ে থেকে ও জেল হাজত হতে জামিনে বেড়িয়ে এসে নানা সময় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদকে পূঁজি করে লোকজনকে উস্কে দিয়ে নানা অপতৎপরতার পাশাপাশী মিথ্যা অভিযোগ, একাধিক বার একাধিক মিথ্যা মামলা করিয়ে মোজাম্মেল তার লালিত কিশোর গ্যাং, তাকে লালন করে এমন কয়েকটি দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসী চক্র, চোরাচালানী চক্র’কে ব্যবহার করে সাংবাদিক আজাদ ও তার সেই শিশু পুত্র (বর্তমানে নবম শ্রেণির) স্কুল ছাত্রকে ফাঁসাতে মরিয়া হয়ে উঠে এই সাইবার সন্ত্রাসী মোজাম্মেল ।