সাতকানিয়ায় সাবেক চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ড, গৃহকর্মী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১ | আপডেট: ৭:১৮:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বহুল আলোচিত প্রবীণ আ’লীগ নেতা আব্দুল হক মিয়ার হত্যাকান্ডের রহস্য প্রাথমিক ভাবে উন্মোচন হয়েছে মর্মে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।

৩মার্চ (বুধবার) বেলা ১২টায় সাতকানিয়া থানার অভ্যান্তরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সহ তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স এবং প্রিন্ট মিড়িয়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মীবৃন্দ।

এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আব্দুল হক মিয়ার হত্যাকান্ডে আমরা তার গৃহকর্মী জমির উদ্দীনের (২৮) কর্মকান্ডে সন্দেহ পোষণ করি। তাকে উদ্ধার পরবর্তী স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের নজরদারিতে রাখি। পরবর্তীতে তাকে সহ আরো ২জনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। সে প্রথমে আমাদেরকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়। আমরা সেগুলোর সত্যতা না পেয়ে পরবর্তীতে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে আমাদের কাছে স্বীকার করে নিজেই আব্দুল হক মিয়াকে (৯০) হত্যা করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য মতে আমরা একটি চুরি এবং একটি লোহার রড (কোরাবারি) সহ আব্দুল হক মিয়ার বাড়ির পিছনের পুকুরের পানি সেচে করে ঐ পুকুর থেকে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি যেখানে একটি আব্দুল হক মিয়ার ও বাকী দুইটি ছিল তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন।

দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ আব্দুল হক মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করে আসছিলেন জমির উদ্দিন। তার বাঁশখালী পৌরসভা জলদির খলিশ্বাপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

হত্যার কারণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জমির উদ্দীনের স্বীকারোক্তি মতে সেদিন রাতে আব্দুল হক মিয়ার সাথে তার বেতন বাড়ানোর প্রসঙ্গে তর্কের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে খারাপ বাক্য বিনিময় হয়। এক সময় আব্দুল হক মিয়া ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে প্রথমে কোরাবারি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন জমির। পরবর্তীতে আব্দুল হক মিয়া আওয়াজ করার চেষ্টা করলে তাকে আবারো উপর্যুপরি আঘাত করা হয় এবং বালিশ দিয়ে তার মূখ চেপে ধরা হয়। এক পর্যায়ে তার দেহ যখন নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

তখন উদ্ধারকৃত চুরি দিয়ে সে নিজ হাতে নিজ পায়ে আঘাত করে এবং পরবর্তীতে নিজেকে বাচাঁনোর জন্য তার পা এবং তার চোখ মুখ বেঁধে সে উদ্ধার পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত মাটিতে পড়ে থাকে।

ঘটনার নেপথ্যে গৃহকর্মী ছাড়া কেউ জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে, পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এই পর্যন্ত ২য় কারো সংশ্লিষ্টতা পাইনি। তবে তদন্ত এখনো বিদ্যামান। আমরা বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখছি। আমরা আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছিলাম। তাদের কাছ থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছি। তবে তাদের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাদী পক্ষের জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ই ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে সাতকানিয়া কেওঁচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কেঁওচিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ আ’লীগ নেতা আব্দুল হক মিয়া। নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হয়। পরবর্তী দিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় পা ও চোখ মুখ বাধা অবস্থায় গৃহকর্মী জমির উদ্দীনকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে শিকার করে সেই নিজ হাতে আব্দুল হক মিয়া কে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহত আব্দুল হক মিয়ার ছেলে নেজাম উদ্দীন, মঈন উদ্দীন, মহিউদ্দীন ও মোঃ কচির বাদী হয়ে বাদী হয়ে ৩রা মার্চ ২০২১ইং তারিখে অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি এজহার দায়ের করেন। সাতকানিয়া থানায় মামলাটি ০৩/০৩/২০২১ইং এর ৪নং এবং ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে রুজু করা হয়। মামলার তদন্তবার এসআই (নঃ) শেখ মোঃ সাইফুল আলমের উপর অর্পন করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।