সাতক্ষীরায় দেখা মিললো প্রায় ৫৫ কোটি বছরের আদি প্রাণীর বংশধর রাজ কাঁকড়া

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০ | আপডেট: ৪:৫৯:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০
ছবি: টিবিটি

সাতক্ষীরা জেলা তালা উপজেলার হাজরারাটী গ্রামের আফছার মোড়ল(৬৩), পিতা মৃত মঙ্গল মোড়ল তিনি জানান যে , প্রতিদিনের ন্যায় আজ মঙ্গলবার (০১ জুলাই)সকালে কাজে যায়, কিন্তু আজ ঘটনাক্রমে তালা উপজেলার হাজরাকাটী গ্রামের কোলাচ বিলে দুপুরে এক টার সময় একটি ব্যতিক্রম ও ভিন্ন প্রজাতির প্রানি পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসার পর জানতে পারি এটি একটি দুর্লভ প্রজাতির রাজ কাঁকড়। এর বৈজ্ঞানিক নাম লিমুলাস পলিফিমাস।

যদিও একে কাঁকড়া বলা হয় তবুও প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে। এরা প্রধানত অগভীর, নরম বালি বা কাদাসমৃদ্ধ সমুদ্রতলে বাস করে। রাজ কাঁকড়া হচ্ছে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো দেখতে উপবৃত্তাকার একটি বিপন্ন প্রজাতির দুর্লভ কাঁকড়া।সাধারণত রাজ কাঁকড়ার জীবনচক্র ডিম, লার্ভা, জুভেনাইল এবং পূর্ণাঙ্গ দশা নিয়ে গঠিত। এরা ৯ থেকে ১২ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং ১২ থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে

পূর্ণ জোয়ারের সময় এরা প্রজনন করে এবং তখন কক্সবাজার, সোনাদিয়া, মহেশখালী এবং সেন্টমার্টিনস দ্বীপের নিকটে জলাভূমির বালুময় সৈকতে ফিরে আসে। এরা মূলত জৈব আর্বজনা ভুক প্রাণী। এদের অধিকাংশই সমুদ্রের তলদেশের ছোট প্রাণী, পোকা-মাকড় এবং ছোট মাছ শিকার করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এরা প্রধানত নিশাচর।

রাজ কাকড়া ডাইনোসরের চেয়েও প্রায় ২০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিল এই রাজ কাঁকড়া। আজ থেকে ৪৫ কোটি বছর আগে বিবর্তিত হয়ে এত দিন প্রায় অবিকৃত চেহারায় থেকে যাওয়ার জন্য এদের জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।এ বিষয়ে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ সংগঠনের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন যে, বিপন্ন প্রজাতির কাঁকড়াটির সন্ধান পেয়ে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ সংগঠনের টিম সেখানে ছুটে যান এবং উদ্ধার পরবর্তী সেটিকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে তালা উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা বাবলি আক্তার বলেন যে, আমরা জানতে পারি হাজরাকাটী গ্রামে একটি বিলুপ্ত প্রজাতির কাঁকড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে বিষয় টি শোনামাত্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং দেখি সত্যিকার বিরল প্রজাতির একটি রাজ কাঁকড়া। ঘটনাস্থলে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত থাকয় এবং সংগঠনের পক্ষ হতে প্রকৃতিতে অবমুক্তির ইচ্ছা প্রকাশ করলে সংগেঠনের সভাপতি ইমরান হোসেন ও সহ সভাপতি জহর হাসান (সাগর) এর নেতৃত্বে প্রকৃতিতে উন্মুক্তের আহব্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ সংগঠনের পক্ষ হতে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়।