সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রানার দায়িত্ব নিলেন নিয়াজ মোর্শেদ এলিট

এস. এম. আকাশ এস. এম. আকাশ

ব্যুরো চিফ,চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: 4:47 PM, November 21, 2019 | আপডেট: 4:47:PM, November 21, 2019
ছবি: টিবিটি

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রানার দ্বায়িত্ব নিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।
মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন ছিল গত ১৬ ই নভেম্বর ২০১৯।সেদিন পুরো মিরসরাই সেজে ছিল অন্যরকম আমেজে।চতুর্দিকে ছিল সাজ সাজ রব, উৎসবের আমেজ। সাথে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।

মুলত ২০১৩ সালে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ এর শেষ কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছিল।তারপর এই ২০১৯ সালের কাউন্সিল। তাই এই কাউন্সিল মিরসরাই বাসি তথা তৃণমূল আওয়ামী লীগের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু সম্মেলনের সকল আগ্রহ থেকে এক মলিন নীরব মুখের ছবি ফেইসবুক এ ভাইরাল হয়। তোলপাড় হতে থাকে ফেইসবুক দুনিয়া।হাজার হাজার স্টাটাস শেয়ার হয়। সাবেক ও বর্তমান ছাত্র নেতাদের হৃদয় হু হু করে উঠে।

সবাই তখন ফেইসবুক এ লিখতে থাকে হায় তৃণমূল। হায় আওয়ামীলীগ। কার আওয়ামীলীগ। কাদের ত্যাগের আওয়ামীলীগ কারা ভোগ করছেন। সবাই লিখেন সবার মনের ক্ষোভের কথা।

ফেইসবুকে সবার ওয়ালে ওয়ালে ঘুরতে থাকে সে মলিন মুখের ছবি।মঞ্চ থেকে মাঠ।মাঠ থেকে ফেইসবুক তারপর সবার হৃদয়ে। অনেকে লিখেন সেই কাউন্সিলে উনি দাওয়াত পাননি।কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতি অসম্ভব ভালোবাসায় মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালেরমাঠে গিয়ে সকাল ১০টায় হাজির হন তিনি।কেউ কেউ লিখেছেন সেই সম্মেলনের বিরিয়ানি ও নাকি উনার কপালে জুটে নাই।

তবে এই সবটুকু আলোচনার সুযোগ এ উঠে আসে আরেকজন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর নাম যিনি নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ এর নির্যাতিত ত্যাগী আর অবহেলিত দুঃসময়ের সাবেক নেতা কর্মীদের জন্য তিনি একজন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

তিনি বলেন দেখুন আমি একজন সমাজ সেবক হিসেবে মিরসরাই তে কাজ করছি ২০১২ সাল থেকে। মিরসরাই বাসীর সাথে দীর্ঘ দিন কাজ করতে করতে আমি এই মোতাহার হোসেন রানা ভাই সহ আরোও কিছু আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারিদের খবর পাই যারা সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগ বা জেলা ছাত্র লীগের কিংবা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বে ছিলেন।

এদের সবাই আওয়ামী লীগের জন্য এমন সব ত্যাগ স্বীকার করেছেন যা বর্তমানে খুবিই বিরল। কিন্তু তাদের তেমন কোন প্রাপ্তি নেই দল থেকে। তবে প্রাপ্তি থেকেও বড় বিষয় মূল্যায়ন নেই কারোই।এটাই এদের মনের অনেক বড় কষ্টের বিষয়।

এলিট আরো বলেন গত জুনের ১৫ তারিখ ২০১৮ সালে রমজানের ঈদে আমি এই সকল ত্যাগী নেতাদের লিস্ট ধরে ধরে ঈদের জন্য আমার পক্ষথেকে সামান্য ঈদ উপহার তুলে দিই। সাথে কিছু ঈদ উৎযাপন করতে পারেন। উনাদের এই সামান্য টুকু করতে পেরে আমিও অনেক তৃপ্তি পেয়েছিলাম।

তবে এই খানে না বললে নয় আমার সেই সামান্য কাজ টুকু তখন সহ্য হয়নি তৎকালীন মন্ত্রী মহোদয়ের। উনি আমার সেই ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কর্মীদের হয়রানি করতে থাকেন।

এমনি একজন কর্মী ঈদের আনন্দ বঞ্চিত হয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আমার কাছে আশ্রয় নেন। আমাদের সেই ত্যাগী আওয়ামীলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের সাহায্য সহযোগিতায় অংশীদারি হতে স্থানীয় কর্মীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।কারণ সাহায্যের পরক্ষণে নিজ দল আওয়ামীলীগ থেকেই তাদের উপর হামলা মামলা কিংবা মাদক কারবারি বানানো হত।

কিছু দিন আগে খবর আসে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানা ভাই ভালো নেই।নিদারুণ অর্থ কষ্ট নিয়ে দিন যাপন করছেন।চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

তখনি আমি রানা ভাই এর সাথে মোবাইলে কথা বলি। উনাকে সর্বোচ্চ সাহায্যের আশ্বাস দিই। রানা ভাই কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।দেশে বিদেশে আজকে সবার রানা ভাই এর জন্য মন খারাপ। সবাই ব্যতীত। মর্মাহত। এলিট বলেন মোতাহার হোসেন রানা ভাই এর দ্বায়িত্ব আজ থেকে আমি নিলাম।

উনার সন্তানদের পড়ালেখার খরচ,উনার চিকিৎসা খরচ সহ আমি উনাকে প্রতি মাসে একটি সম্মানী দিবো। যা উনার নিজের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা হবে।
আমি উনাকে একটি পাকা বাড়ী করে দিবো, যাতে উনার আগামী দিনে বাসস্থান এর সমস্যাটা সমাধান হয়। এছাড়া তার যখন যা লাগবে আমি তার ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ।

প্রসঙ্গত, মোতাহার হোসেন রানা ছিলেন সাবেক ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী মুঈনু- ইকবাল পরিষদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি জসীম উদ্দীন হলের বাদশা-মোক্তার প্যানেলের নাট্য ও সামাজিক অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক এবং হল শাখা ছাত্র লীগ সভাপতি।

১৯৯০ সালে সামরিক জান্তার সময়ে তিনি বর্তমান আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর সাথে ৬৪ জেলা ছাত্রনেতা হিসাবে ঘুরেছেন। উনার অনল বর্ষী বক্তৃতা অনেকে তখন মন্ত্রের মত মুগ্ধ হয়ে শুনতেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা নিয়মিত ছাত্র ছিলেন এবং ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে ছাত্র নেতাদের সবার প্রিয় মুখ ছিলেন।
কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস উদিয়মান তরুন ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন রানা মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে ১৯৯২ সালের বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে

বি. এন. পি. – জামাত সন্ত্রাসী কর্তৃক মারাত্মক হামলার স্বীকার হন।সেই হামলায় মোতাহার হোসেন রানার মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেতলানো ছিল।
মৃত ভেবে রানাকে ফেলে চলে যায়।সে হামলায় রানার অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হানি ঘটে।মোতাহার হোসেন রানা বিকলাঙ্গ হয়ে যান। এই খবর ততকালিন আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কানে পৌঁছালে নেত্রী রানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর নির্দেশ দেন।কিন্তু রানার কপাল খারাপ সেই ভাগ্য রানার হয়নি।অজানা কারনে রানার উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়া হয়নি।

চিকিৎসা নেন ঢাকার তৎকালীন পিজি হসপিটাল বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডাক্তার জানান মোতাহার হোসেন রানার যা ক্ষতি হওয়ার ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। রানার সময় মত যথাযথ চিকিৎসা হয়নি, হলে হয়তো রানা সুস্থ হয়ে আবার রাজপথের লড়াকু সারথি হয়ে শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ ভ্যানগার্ড এর দ্বায়িত্বে থাকতেন।

তারপর কিছুটা সুস্থ হয়ে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মোতাহার হোসেন রানাকে প্রথমে ২০০৪ সালে ৯ই জুন ধানমন্ডির সভাপতির কার্যালয়ে তাঁহার প্রতিনিধি হিসাবে থাকা -খাওয়া ফ্রি করে মাসিক বেতন ধার্যে রাখেন এবং ২০০৮ সালের ২৮ শে ডিসেম্বর নির্বাচনে বিশাল বিজয় নিয়ে জয়যুক্ত হয়ে সরকার গঠন করে ৫ই এপ্রিল ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাটলার পদে ফ্রিভিলিজ কর্মচারী হিসাবে চাকুরীতে রাখেন।

তবে সেই বেতনে আজকের দিনে মোতাহার হোসেন রানার ৮ জনের পরিবারের ভরণ পোষণের খরচ চালাতে নিত্যদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে।তার উপর ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ বহন সহ নিজের চিকিৎসা চালিয়ে দুই বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করাটা রানার জন্য দুঃসাধ্য ব্যপারে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোতাহার হোসেন রানা জানান, নিয়াজ মোর্শেদ এলিট আমাকে ফোন করেছে সে আমার এলাকার সাবেক ছাত্রলীগের ছোট ভাই।সে আমার সাথে দেখা করেছে, আমাকে আশ্বস্ত করেছে আমার দ্বায়িত্ব নিয়েছে, প্রতি মাসে আমাকে সম্মানী দিবে আর আমার বাড়ী নির্মাণ করে দিবে, আমার যখন যা রানা বলেন এলিট অনেক ভালো মানুষ তরুণ উদিওমান আওয়ামীলীগ নেতা। আমি মন থেকে এলিট এর জন্য আল্লাহ্তালার কাছে দোয়া করি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে এলিট এর মত মুজিব সেনার আজকের দিনে বড্ড দরকার।

আর ফেইসবুকে যারা আমার জন্য পোষ্ট করেছেন, আমাকে কল দিয়েছেন,আমার জন্য সহানুভূতি দেখিয়েছেন বিশেষ করে আমার ছাত্রলীগের সাবেক আর বর্তমান নেতা কর্মী সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ জানাই।আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।যেহেতু আমার ছোট ভাই নিয়াজ মোর্শেদ এলিট আমার দ্বায়িত্ব নিয়েছে।

এখন আমার বতর্মান অবস্থার কথা বিবেচনা করে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে এক কালিন সাহায্য করেন তবে তা দিয়ে আমার ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়।