‘সামরিক বাহিনীকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ২:০৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮

খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ সেনাবাহিনী দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা এ দাবি জানান। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের শেষ কথা, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং জাতীয় সংসদকে ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনের সময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে এবং সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে নির্বাচন পরিচালনা করার। যে নির্বাচন কমিশন আছে, সেই নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে।’

সরকার পতনের জন্য জাতীয় ঐক্য’র আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে সমগ্র দেশবাসীকে আহ্বান জানাতে চাই, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে আহ্বান জানাতে চাই, ব্যক্তিকে আহ্বান জানাতে চাই— আসুন, এখন আর কোনো বিভেদ নয়। গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, বাংলাদেশকে রক্ষা কবার জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা কবার জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী (খালেদা জিয়া) কারাগারে যাওয়ার আগে আহ্বান করে গিয়েছিলেন জাতীয় ঐক্য তৈরির জন্য। সেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা স্বাগত জানাই যারা আজকে ঐক্য করছেন। আমি তাদেরকে আহ্বান জানাই, আসুন আরও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য তৈরি করে এই স্বৈরাচারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মন্ত্রীরা আগেই বলে দিচ্ছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের সাজা হবে।’

‘আপনারা কি বিচারকের দায়িত্ব নিয়েছেন? তদন্ত করেছেন ঠিকমতো? আপনরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই তদন্তকে প্রভাবিত করেছেন। তিন জন আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) পার হওয়ার পর, কেয়ারটেকার সরকারের আইওদের তদন্তের পর, আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর নতুন করে তদন্ত করেছেন এবং সেই তদন্তে মুফতি হান্নানকে দিয়ে মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করে তারেক রহমানকে আসামী করেছেন’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে এ সরকার মুক্তি দেবে না। আমাদেরকে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করতে হবে। সেই মুক্তি হতে হবে নিঃশর্ত।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদেরকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতে চায়। আমাদের নেত্রী দাবি করেছিলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। আমরাও এই সভা থেকে বলতে চাই, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে দেশনেত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার বক্তৃতায় বলেন, ‘আইনী প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভবপর নয়, একমাত্র পথ হলো রাজপথ। এই রাজপথে যাওয়ার জন্য এখন সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। নেত্রীকে মুক্ত করে নির্বাচনের দিকে এগোতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে নির্বাচন, একদিকে আন্দোলন। আর এই আন্দোলন হবে নেত্রীর মুক্তির জন্য এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য।’

নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি, ‘একটি সংসদ রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচনের নজীর পৃথিবীতে নেই। আমি যদি সংসদ সদস্য থাকি এবং আবার নমিশেন পাই তাহলে দেশের প্রশাসন এবং পুলিশ আমার পক্ষে থাকবে। আমার প্রতিপক্ষ কোনো দিন জিততে পারবে না। তার পক্ষে জেতা সম্ভব হবে না।’

‘সেই জন্যই আমরা দাবি করেছি নির্বাচনের ৯০ দিন আগে এই পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। পার্লামেন্ট থাকা অবস্থায় যদি নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচন অর্থহীন হবে’— ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ অন্যরা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈয়মুর আলম খন্দকার, ফরহাদ হালীম ডোনার, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান,সহ-যু্ব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, কামরুল ইসলাম সজল, মো. মতিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান, মো. সালাউদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার,মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা।

সমাবেশ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগেই সকাল ১১টা থেকে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনের সড়কের একপাশ বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর দেড়টার পর সড়কের দুই পাশেই যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে রাজপথ। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দেন। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার, ফেস্টুন, হেডার, ধানের শীষের রেপ্লিকা, গ্রেফতার, আহত ও নিহত নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত পোস্টার-ব্যানার ছিল।

এদিকে, বিশাল এ সমাবেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সমাবেশস্থল থেকে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করেনি পুলিশ। ঘটেনি কোনো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। বেঁধে দেওয়া সময় বিকেল ৫টার পরপরই সমাবেশ শেষ হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।