সারা বছর মাংস চোখে দেখি না, ঈদের দিন সবার দুয়ারে যাই

প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৩৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কোরবানি করেছেন। সারা বছর গরুর মাংস কপালে না ঝুটলেও এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন অসহায় গরিব ও ছিন্নমূল মানুষ।

ঈদের দিন সকাল থেকে কোরবানি দেয়া মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যায় তারা। এর আগে তারা খোঁজ রাখে এলাকার কোন কোন বাড়িতে কোরবানির গরু জবাই হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদের আনন্দ তাদের নেই। আনন্দ একটাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করা। তাদেরই একজন শাহীনা বেগম।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর বাগবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকেন শাহিনা বেগম। তিন বছর আগে স্বামী-সন্তান নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে বসবাস শুরু করেন। পাঁচ মাস আগে স্বামীর মৃত্যুতে তিনি এখন অসহায়। তিন ছেলে দুই মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

ঈদের দিন বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মাংস তুলেছেন শাহিনা বেগম। তার সঙ্গে ছিল ছোট ছেলে।

শাহিনা বেগম বলেন, অল্প বয়সে বিয়া হইছে। পড়ালেখা জানি না। জামাই থাকতে কাম-কাইজ করি নাই। তার মৃত্যুর পর মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি। এলাকার মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে সংসার চালাই।

কোরবানির ঈদের কথা তুলতেই অসহায় শাহিনা বেগম বলেন, কোরবানি! এইটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। কোরবানি দেয়া কোনোদিন ভাগ্যে জোটেনি। হয়তো বাকি জিন্দেগিতেও জুটবে না।

তিনি বলেন, সব ঈদে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস উঠাই। সারা বছর মাংস চোখে দেখি না। ঈদের সময় একটা সুযোগ পাই। তাই সবার দুয়ারে দুয়ারে যাই। তয় কিছু খাই। বাকি সবই বেইচ্চা দিই। ঘরে টাকা নাই। শুধু কি খাইলেই চলব। ঘরে যে খরচ। বাড়ি ভাড়া হইয়া গেছে আড়াই হাজার টাকা। তিন মাসের ভাড়া বাকি। চার পোলা-মাইয়া লইয়া এক ঘরে থাকি। আশা করেছি, আজ বেশি মাংস উঠাইতে পারলে হেই মাংস বেইচ্চা দেনা শোধ করমু। তাই সকাল থেকে ছুটছি মানুষের বাড়ি বাড়ি। কমবেশি সবাই মাংস দিছে। আরও কয়েকটি বাড়িতে যামু।