সালথায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০, পুলিশের ১২৫ রাউন্ড গুলি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৪৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর মঙ্গলবার সকালে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৫১ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কাগদী স্কুল কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার সভাপতি প্রার্থী মোহাব্বত মাতুব্বরের সমর্থকরা বিষ্ণুদি গ্রামে ভোট চাইতে গেলে অপর সভাপতি প্রার্থী আফসার মাতুব্বরের লোকজন তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এরই জের ধরে আফসার মাতুব্বরের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কাগদী বাজারে গিয়ে মোহাব্বত মাতুব্বরের সমর্থকদের দোকানে হামলা চালায়। আধাঘণ্টা ধরে এ হামলায় বাজারের স্টেশনারি, ওষুধদের দোকান, কাপড়ের দোকানসহ ১৫টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।

এরপর বিকালে আফসার মাতুব্বরের কয়েক হাজার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফের হামলা চালায়। হামলাকারীরা এ সময় মুরাটিয়া, হরেরকান্দী, কাগদি, স্বজনকান্দা ও নওপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে হামলা চালালে উভয়পক্ষের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে।

এ সময় কমপক্ষে ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ৩টি বাড়ির রান্নাঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাট চালায়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শর্টগানের ১২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৫১টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি আহত হয়।

মঙ্গলবার সকালে ফের দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ হয়।

সালথা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।