সালিশে যুবকের ‘পুরুষাঙ্গে ইট বেঁধে’ ঘোরালেন চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩২:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১
পুরুষাঙ্গে রশি বেঁধে যুবককে নৃসংশ নির্যাতন, গ্রেফতার ইউপি চেয়ারম্যান। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নে গ্রাম্য সালিশে মধ্যযুগীয় কায়দায় রাশেদুল শেখ নামের এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম আলী ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) রাতে রাশেদুলের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। পরে যুবকের বাবা ইমান আলী শেখ বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় রাতেই কালুখালী থানা পুলিশ ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে।

রোববার রাতেই পুলিশ রাশেদুল নামে ওই যুবককে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

আটককৃত ইউপি চেয়ারম্যান কালুখালী উপজেলার সাত নম্বর সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো: শহিদুল ইসলাম আলী ও একই ইউনিয়নের বড়বিলা গ্রামের শফিউদ্দিন শুটকি মন্ডলের ছেলে রায়হন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে সাওরাইল ইউপির চর পাতুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পাতুরিয়া গ্রামের ইমান আলী শেখের ছেলে মো: রাশেদুল শেখের বিরুদ্ধে এক নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে রাশেদুলকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০০ জুতার আঘাত ও জরিমানা করা হয়। তবে এ শাস্তিতে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী সন্তুষ্ট হননি। তিনি শাস্তি হিসেবে রাশেদুলের পুরুষাঙ্গে রশি দিয়ে ইট বেঁধে স্কুল মাঠ প্রদক্ষিণ করান। এতে ভুক্তভোগীর পুরুষাঙ্গ কেটে রক্তপাত হতে থাকে। ওই সময় চেয়ারম্যান রাশেদুলকে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। একপর্যায়ে এ ঘটনা পুলিশকে না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরে ভুক্তভোগীকে তার নিজ বাড়িতে চেয়ারম্যানের লোকজন দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা রাতে কালুখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই রাতে সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো: শহিদুল ইসলাম আলী ও তার সহযোগী একজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

সাওরাইল ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, এমন ঘটনা চেয়ারম্যানের নতুন নয়। তার বিরুদ্ধে এরকম অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলে না।

এ ব্যপারে কালুখালী থানান অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, এটি একটি অমানবিক ঘটনা। নৃসংশ নির্যাতনের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী ও রায়হানকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে ৩২৩, ৩২৬, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।