সাহসীকতার জন্য অন্তরাকে পুরস্কৃত করলেন ডিএমপি কমিশনার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৩৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

রিকশায় যাত্রাবাড়ীতে এক আত্মীয়র বাসায় যাচ্ছিলেন রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা অন্তরা রহমান। পথে হঠাৎ এক ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপরই রিকশা থেকে নেমে তার পিছু নেন তিনি।

ধাওয়া করার পর অন্তরা দেখেন-একটি যাত্রীবাহী বাসে ছিনতাইকারী ওঠে পড়েন। এরপরই বাসে ওঠে ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করতে চাইলে চালক ও তার সহকারী অন্তরাকে বাধা দেন। তবে তিনি দমে যাননি। তিনি চালক ও সহকারীকে বলেন- বাস না থামালে তিনি চিৎকার করতে বাধ্য হবেন।

এরপরও চালক বেপরোয়া। তিনি বাস থামাতে চাইলেন না। এতে বাধ্য হয়ে অন্তরা বাসের মধ্যে চিৎকার করতে লাগলেন। পরে আশপাশের লোকজন বাসটি থামাতে বাধ্য করেন। তখন অন্তুরা ছিনতাইকারী শনাক্ত করলে তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও ব্যাগ পাওয়া যায়।

পরে পথচারীদের মহায়তায় মো. শাহীন নামে ওই ছিনতাইকারীকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন অন্তুরা। গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় অন্তুরার এ ধরনের সাহসিকতার জন্য তাকে সম্মাননা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার অন্তরার হাতে নগদ ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন। অপরাধী ধরার মধ্য দিয়ে একজন সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করায় তাকে পুরস্কৃত করা হলো।

অন্তরা বলেন- তার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারের দুয়ারিয়া গ্রামে। তার বাবা সাগির আহমেদ দুবাই প্রবাসী। সিদ্ধেশ্বরী কলেজে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ল’ ফার্মে চাকরি করছেন অন্তুরা।

ছিনতাই হওয়ার পর যে কোনো উপায়ে তাকে ধরতে হবে- এই জেদের জায়গা থেকেই রিকশা থেকে নেমে তার পিছু নেন তিনি। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার ঘটনাটি জানতে পেরে সাহস দেন। ডিএমপির কাছে এ ধরনের স্বীকৃতি অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক বলে জানান তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, অন্তুরা যেটা করে দেখিয়েছেন সেটা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সে নিজে ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালনের পিছপা হয়নি। প্রতি মাসেই ভালো কাজের জন্য নির্বাচিত পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার দেওয়া হয়। এবার সেই তালিকায় একজন সচেতন সাহসী নাগরিক যুক্ত হলেন।