সাড়ে ৫ হাজার কোটির প্রথম হাইড্রোজেনচালিত প্রমোদতরীর মালিক হচ্ছেন বিল গেটস

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ | আপডেট: ৭:৪৪:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী বিল গেটস। তার সম্পদের পরিমাণ ১১৮ বিলিয়ন ডলার। সময় পেলেই নিয়মিত সুপার ইয়টে ছুটি কাটান বিল গেটস। তবে এতদিন তার নিজস্ব কোনো ইয়ট ছিল না। নিজের প্রয়োজনে ইয়ট ভাড়া নিতেন ৬৪ বছর বয়সী এ ধনকুবের। ভূমধ্যসাগরে ইতালীয় দ্বীপ সার্দিয়ানায় বিল গেটস যে ইয়টে ছুটি কাটিয়েছেন সেটির দাম ছিল ৩৩০ মিলিয়ন ডলার।

তবে এবার আর ইয়ট ভাড়া নিতে হবে না বিল গেটসকে। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্প্রতি বিলাসবহুল একটি প্রমোদতরী কিনেছেন, যা চলবে তরল হাইড্রোজেনে। অর্থাৎ এই প্রমোদতরী ধোঁয়ার পরিবর্তে নির্গত করবে পানি। বিলাসবহুল এই জলযানের মূল্য (৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড) বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার ৪৭৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার সমান।

এর আগে এ ধরনের তরল হাইড্রোজেনচালিত প্রমোদতরী দেখা যায়নি বিশ্বে। পাঁচতলা এই প্রমোদতরী লম্বায় ৩৭০ ফুট। তাতে একসঙ্গে ১৪ জন অতিথি সফর করতে পারবেন। নাবিক দলে থাকবেন ৩১ জন। এছাড়াও প্রমোদতরীটিতে হেলিপ্যাড, স্পা, জিমনেসিয়াম, ইয়োগা স্টুডিও, বিউটি রুম, মাসাজ পার্লার ও সুইমিং পুল থাকবে।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রমোদতরীটিতে হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করে ব্যাটারি ও মোটর চালানো হবে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সঠিক সমন্বয়ে মিশ্রণ করে এই কাজ চলতে থাকবে। ডাচ ডিজাইন ফার্ম সিনোটের দ্বারা মোনাকো প্রমোদতরী প্রদর্শনীতে গত বছর এটি প্রথম দেখা যায়।

২০২৪ সালের আগেই এই প্রমোদতরী সমুদ্রে তার যাত্রা শুরু করতে পারবে। যার গতি হবে ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল। একবার জ্বালানি নিয়ে ৩ হাজার ৭৫০ মাইল অর্থাৎ লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পাড়ি দিতে পারবে বিলাসবহুল এই জলযান। এছাড়া ব্যাকআপ হিসেবে ডিজেল রাখারও ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলে নেয়া যায়।

পরিবেশবান্ধব এই জলযানের বিশেষত্ব হলো, এতে ভ্রমণকারী অতিথিরা কাঠ বা কয়লা না পুড়িয়ে ‘জেল ফুয়েলড বোলের’ মাধ্যমেই শরীর উষ্ণ রাখতে পারবেন। ৬৪ বছর বয়সী বিল গেটস ১১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পত্তি নিয়ে বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। এতদিন নিয়মিত ভ্রমণ করলেও নিজস্ব কোনো প্রমোদতরী ছিল না তার।