সিংগাইরে গ্রেফতারকৃত দুই আসামীর ছাত্রলীগ নেতা মিরু হত্যার দায় স্বীকার

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১ | আপডেট: ৮:৪৯:অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা জড়িত থাকার অপরাধে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়। এরা হলো ইমরান মোল্লা (২০),মো. সোহান মোল্লা (১৬) ও ইমান আলী(৩০)।

এদের মধ্যে ইমরান আলী ও ইমান আলী অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে। তবে আরেক আসামী সোহান মোল্লা নাবালক হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। এদের সবার বাড়ি উপজেলার আজিমপুর এলাকায়।

তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনো মুল আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এছাড়া হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রীলীগ।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, ফারুক হোসেন মিরুকে হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই রিয়াজুল করিম বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ইতি মধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজহারভুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত আটোরিকসা,একটি রামদা ও কয়েকটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে ইমরান আলী ও ইমান আলী অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট্র আমিনুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে। তবে আরেক আসামী সোহান মোল্লা নাবালক হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত অনান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, দলের অভ্যান্তরিণ কোন্দলের জের ধরে সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরুকে ধারাল্ েঅস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যা কান্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে সিংগাইর সরকারী কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ দুলাল ও তার বড় ভাই উপজেলা পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিন ওরফে আঙ্গুর ফারুক। এক মাস আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই পক্ষে মধ্যে বিরোধ চলছিল।

বিরোধের জের ধরে গেল সোমবার রাতে উপজেলার জয়মন্ডপ এলাকায় একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে মটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরু। রাত একটার দিকে সিংগাইর পুরানো বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় পৌছালে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থা আসংকা জনক হওয়ায় সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সে মারা যায়।

এদিকে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরু হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ফ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে হরিরামপুর উপজেলা চত্তরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় বক্তব্য রাখেন, হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রামকৃষœ রায়,যুগ্মসাধারন সম্পাদক মহিদুর রহমান,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. লুৎফর রহমান,সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ প্রমুখ। বক্তারা মিরু হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রæত ফ্রেফতারের দাবী জানান।